গর্ভধারণের ৫ম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি- গর্ভধারণের ৫ম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

আপনি এখন এমন এক সপ্তাহে অবস্থান করছেন-যে সপ্তাহে গর্ভধারণ নিয়ে- আপনার আর কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। কারণ-আপনার শরীরে এখন প্রেগন্যান্সী হরমোনের প্রভাবে গর্ভধারনের লক্ষনগুলো সুস্পষ্ট । একমাত্র গর্ভবতী অবস্থাতেই এই হরমোন নিঃসরণ হয় বলে এ সপ্তাহে এসে বাসায় করা পরীক্ষাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্ভুল হয়। এই সপ্তাহেই আপনি গর্ভধারণের উপসর্গগুলোকে আরো বেশী শক্তিশালী হিসেবে দেখতে শুরু করবেন। অভিনন্দন! আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভবতীদের ক্লাবের সদস্য হয়েছেন ।

৫ম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ
‘গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলি এই সপ্তাহ থেকে আরও স্পষ্ট হবে । গর্ভাবস্থার ৫ সপ্তাহের মধ্যে স্তনে টনটনে ভাব চলে আসে এবং এবং কালশিটে দাগ দেখা দেয়। এ সপ্তাহে শিশুর বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে হয় বলে আপনার অনেক ক্লান্তি বোধ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্রাম নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। ৫ম সপ্তাহের মধ্যে আপনি আপনার পেটে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। কারণ এ সময় আপনার গর্ভাশয়ের বৃদ্ধির ফলে লিগামেন্ট প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসার হওয়ার কারণেই আপনার পেটে ব্যথা। কিন্তু এটা যদি অস্বাভাবিকভাবে বেদনাদায়ক হয় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। এছাড়াও এই সপ্তাহে আপনার কিডনি সম্প্রসারিত হয় বলে আপনাকে আগের তুলনায় আরো ঘন ঘন প্রস্রাব করতে যেতে হতে পারে। কিছু কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলি আসা যাওয়া করতে পারে। কিন্তু এমনটি ঘটাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গর্ভাবস্থার কোন লক্ষণ না থাকলে আপনার গর্ভাবস্থায় কোন সমস্যা আছে এমনটি ভাবার কারণ নেই।

কোষ্ঠকাঠিন্যে

গর্ভাবস্থায় শরীরে প্রোজেস্টেরণ হরমোনের বৃদ্ধির ফলে শরীরের পেশীগুলো শিথিল হওয়ার সাথে সাথে পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলোও শিথিল হয়ে পড়ে। এরফলে খাবার হজম ধীরে হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
এছাড়া, গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হতে থাকায় বৃহদন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কারণেও এসময় কোষ্ঠকাঠিন্য অনেক বেড়ে যায়। আবার আয়রণ সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার ফলে অথবা মানষিক চাপের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভে সন্তান এলে আরো বেশী করে খাবারের নিয়ম মেনে চলতে হয় এসময় বেশী আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের সাথে সাথে বেশী পরিমানে পানি প্রচুর পরিমানে শাকসবজি এবং দুগ্ধজাত খাদ্য বেশি বেশি খেলে এ সমস্যা থেকে অনেকটাই দুরে থাকা যায়।
গর্ভধারণের ৫ সপ্তাহে, আপনার পেটকে তেমন একটা ভিন্ন দেখাবে না । তবে, একটু ফুলো হয়ে পড়তে পারে অথবা আপনি মনেই করতে পারেন যে আপনি প্রায় এক কিলোগ্রাম ওজন অর্জন করেছেন, তবে এটিও বিরল । কারণ, ৫ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি ততটা বোঝা যায়না।

শিশুর বৃদ্ধি

এই সপ্তাহে ভ্রূণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আপনার শিশুটিকে দেখতে এখন ছোট ব্যাঙ্গাচির মতো দেখায়। কিছু রক্তনালী মিলে একটি দড়ির মত তৈরি হয় যা নাভিকান্ড বা আম্বিলিক্যাল কর্ডে
পরিণত হয়ে শিশুটিকে তার মায়ের দেহের সাথে সংযুক্ত করে। ভ্রূণটি এখন তিনটি স্তর থেকে বিকশিত হচ্ছে। যার একটিকে বলে এ্যাকটোডাম, অন্যটি হলো মেসোডাম এবং তৃতীয়টিকে বলে এন্ডোডাম ।

এসপ্তাহে শীর্ষ স্তর বা একটোডাম বিকশিত হয়ে শিশুর স্নায়ু টিউব, মস্তিষ্ক, ত্বক, চুল, ঘামের গ্রন্থি গঠিত হয়। আর মেসোডাম থেকে বাচ্চার হৃদপিন্ড, ব্লাড সার্কুলারি সিস্টেম, ত্বকের নিচের টিস্যূ, তরুনাস্থি, হাঁড় বিকশিত হয়। ভিতরের স্তর এন্ডোডাম থেকে শিশুর শ^াসতন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্র গঠিত হয়। এখনো হৃদপিণ্ডের আলাদা প্রকোষ্ঠ তৈরি না হলেও তার মধ্যে স্পন্দন তৈরি হয়েছে এবং শিশুর শরীরে অন্যান্য অংশে রক্তসঞ্চালনের কাজ করে যাচ্ছে।

এ সপ্তাহে করনীয়

এই সপ্তাহের সময়টাতে যেহেতু ভ্রুনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্ধন হয়, তাই যে কোন ধরনের ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এ অবস্থায় খাওয়া ওষুধের প্রভাব ভ্রুণের উপরও পড়ে থাকে। হজমে সমস্যা হলে একবারে বেশী না খেয়ে বিরতি দিয়ে খাবার খাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ দিনে ৩ বার বেশী করে খাওয়ার পরিবর্তে ছোট ছোট ভাগে ৪-৫ বার খাওয়া ভাল। মুড সুইং এর জন্য- খারাপ লাগা, রাগ বা অভিমান বেশী বেশী হতে পারে। তবে-এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি মনে করেন, এটা একদমই আপনার নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা আবশ্যক।

এসময় ফলিক এসিড সমৃদ্ধ প্রি-ন্যাটাল মাল্টিভিটামিন খেতে হবে। থাকতে হবে অ্যাক্টিভ । পাশাপাশি সন্তানের কথা ভেবে হলেও পুষ্টিকর খাবার- যেমন সোয়া, পাস্তা, টফু, বাদাম, লেবুজাতীয় ফল, মটরশুটি গ্রহণ করুন। ইতিমধ্যেই যদি আপনার দুধ খেতে ঘৃণা আসে তাহলে ক্যালসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে পনির এবং দই খেতে পারেন। কারণ আপনি এখন যা খাবেন- তার প্রভাব আপনার গর্ভের শিশুর উপর পড়বে।

গর্ভাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আপনাকে ভালোভাবে খাওয়াদাওয়া করতে হবে- যাতে আপনার গর্ভস্থ শিশুটি- তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। কিছু কিছু খাবার- গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা ভালো। তাছাড়া, জাঙ্ক ফুড, ধূমপান, মদ্যপান বা ড্রাগ ব্যবহার বাচ্চার জন্য খুবই ক্ষতিকর।

বাচ্চার কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা জানার জন্য এসময় (নিউকাল ফোল্ড টেস্ট) কিংবা সিভিএস টেস্ট করা যেতে পারে। যদি আপনার এর আগে গর্ভপাত হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো এবারের গর্ভাবস্থা আপনার জন্য নির্মল আনন্দের নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ৫ম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো।

ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন
আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *