গর্ভধারণের ৬ষ্ঠ সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে

মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি- গর্ভধারণের ৬ষ্ঠ সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

আপনি এখন এমন এক সপ্তাহে অবস্থান করছেন, যে সপ্তাহে গর্ভাবস্থার সক্রিয় উপসর্গগুলোর সুবাদে আপনাকে মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতায় আপনি এখনও বেশ নতুন, এ প্রেক্ষিতে আনন্দের খবরটি সবাইকে না বলার অধিকারও আপনার আছে । কারণ, এই পর্যায়ে সমস্ত তথ্য বুঝে এবং সঠিক তথ্য জেনে সবাইকে জানানোই ভালো ।

৬ষ্ঠ সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ:

ষষ্ঠ সপ্তাহে এসে আপনার শরীরে গর্ভধারণের লক্ষণগুলো পুরোমাত্রায় দৃশ্যমান। এছাড়াও এসময় আপনার গর্ভে বাড়ন্ত ভ্রুণটিকে জায়গা করে দিতে জরায়ু ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় মূত্রথলীর উপর চাপ সৃষ্টি হবে। যারফলে, আপনার ঘনঘন বাথরুমে যাওয়ার দরকার হবে। এমনকি রাতের বিভিন্ন অংশে ঘুম থেকে উঠে কয়েকবার আপনাকে বাথরুমে যেতে হতে পারে। তবে, জরায়ু বাঁচ্চার জন্য যথেষ্ট পরিমান বড় হওয়ার সাথে সাথে এই চাপ কমতে থাকবে।

তাছাড়া, এসময় খাবার হজমে সমস্যার পাশাপাশি অনেকেরই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় বুক জ্বালা-পোড়া হওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমনকি, অন্য সময় যে আপনি অনেক কাজ করেছেন এসময় খুব অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। শিশুর প্রথম খাদ্যের যোগানে স্তনের আকারে বাহ্যিক পরিবর্তনও পরিলক্ষিত হবে। তাছাড়াও ইউরিনারী ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ফলে অনেকেরই এসময় প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া হতে পারে।

গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি:

গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ সপ্তাহে ভ্রূণের মাথার আকৃতি দেহের তুলনায় বড় থাকে। এবং মাথায় যে কালো স্পট দেখা যায়, সেখান থেকে বাচ্চার চোখ ও নাকের গঠন শুরু হয়। আর মাথার দুপাশে একটু চাপানো অংশ থেকে শুরু হয় বাচ্চার কানের গঠন।

অন্যদিকে ভ্রূণের দু পাশে থাকা কুঁড়ির মত অংশ থেকে শুরু হয় বাচ্চার হাত এবং পায়ের গঠন। পাশাপাশি এসময় বাচ্চার জিহ্বা ও ভোকাল কর্ডের গঠনও শুরু হয়ে যায়।

সাধারণত অষ্টম সপ্তাহে আলট্রাসাউন্ড করালে বাচ্চার হার্টবিট শোনা যায়। তবে ভ্যাজাইনাল আলট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে পঞ্চম সপ্তাহেও বাচ্চার হার্টবিট শোনা যেতে পারে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের চেয়ে এ সময় বাচ্চার হৃদস্পন্দন থাকে দ্বিগুণ। যা মিনিটে চলে ১৬০ বার।

এ সপ্তাহে করনীয়:

এ সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে গর্ভের সন্তানের উপরও এর প্রভাব পড়ে তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করায় উত্তম। যেকোনো ধরনের ওষুধের ব্যাপারে সাবধানতা হিসেবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সেবন করা আবশ্যক।
একজন গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত ফলিক এসিড গ্রহন করা উচিত। ফলিক এসিডের উৎস হিসেবে শাকসবজি, ব্রকলি, লেটুস, সাইট্রাস ফল, কলিজা, ডাল, মটরশুঁটি খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় দৈনিক কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার পানি খাওয়া জরুরী।

কফি, চা বা সোডা জাতীয় পানীয় পরিহার করা আবশ্যক । গর্ভবতী মায়েদের উচিত জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকা। জাঙ্ক ফুডের চাইতে এসময় ফলমুলের প্রতি আকৃষ্ট হওয়াই শ্রেয়।

একসাথে ভরপেটে না খেয়ে ছোট ছোট বিরতিতে অল্প করে খাবার খেতে থাকুন, এতে আপনার যেমন রুচিও নষ্ট হবেনা তেমনিভাবে খেয়েও কিছুটা স্বস্তি মিলবে। দিনে তিন বেলা না খেয়ে তিনবেলার খাবারকে ছোট ছোট ভাগে ছয়বার বা তাঁর বেশি বিরতিতে খেলে- এসিডিটি এবং বমিভাব থেকে অনেকটাই স্বস্তি মিলবে। আর গর্ভবতী মায়েদের মন ভালো থাকলে গর্ভস্থ শিশুর মানসিক বিকাশও সুষ্ঠু হয়। এ সময় পরিবারের সবারই উচিত গর্ভবতী মাকে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখা। এসব কাজে স্বামীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এসময় স্বামীদের গুরু দায়িত্ব হলো- স্ত্রীর সাথে মধুর সম্পর্ক বজায় রেখে তাকে যথাযথভাবে সহযোগিতা করা। এসময়- যথাসম্ভব আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং অতিরিক্ত গরমে যাওয়া- ও লম্বা ভ্রমণ পরিহার করুন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ৭ম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো।

ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *