বগুড়ার শেরপুরে ৩শ বিঘা জমির ফসল পানি বন্দি!

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌর এলাকার কৃষক জাকারিয়া, রব্বানী, আবিদুর, হিটলু, আব্দুর রহিম, আইজুল, হালিম, আলতাফ আলী, আমিনুল, মান্নান। লাভের আশায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও জমিতে নানা ধরণের সব্জি লাগিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তাদের সেই লাভের আশায় বাঁধ সাধল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে এবং এ উপজেলায় গত কয়েক দিনের ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চলের ঘোড়দৌড়, মেঘাই খাল দিয়ে জমিতে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার ঘোড়দৌড়, পারভবানীপুর, নগর এলাকাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩শ বিঘা আবাদী জমির (সবজি ক্ষেত) করলা, মরিচ, বেগুন, পোটল, সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কুমুর এবং আমন ধানের আবাদ পানিতে তলিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।

উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় এলাকায় নিম্নাঞ্চলের ৩শ বিঘা কৃষি জমি পানি বন্দি হয়ে পড়ায় কৃষি জমি উদ্ধারে ৩টি গ্রামের ২০/২৫ জন কৃষক ও এলাকার যুবসমাজ মিলে ১০টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে রাত-দিন সেচ দিয়ে জমি থেকে পানি বের করে ফসল রক্ষায় অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৪ দিন যাবত এ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

বেশি দিন পানি বন্দি হয়ে থাকলে কৃষি আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে। এ অবস্থায় আবাদী ফসলগুলো রক্ষায় ১০টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি বের করে দিচ্ছেন তারা। আর এ সকল কৃষি আবাদি জমির পানি শুকাতে ৩টি গ্রামের কৃষকরা যে যার সাধ্যমত ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়ে ১৪ দিন যাবত ১০টি শ্যালো মেশিন দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টায় (প্রায় দৈনিক ১৭/২০ হাজার টাকা খরচ করে) পানি সেচে জমি থেকে পানি নামিয়ে ফসল রক্ষার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । গ্রামের এসব কৃষক মেশিনের জ¦ালানী খরচ মেটাতে গ্রামের মানুষের দারস্থ হয়েছেন। গ্রামবাসীরা ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিজেরা চাঁদা তুলে এই সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে, ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে লোহার ষ্টিল ক্রয় করে ঘোড়দৌড় মেঘাই খালের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে, যেন বন্যার পানি আর প্রবেশ করতে না পারে।

শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচে পানি কমানো জাকারিয়া, রব্বানী, আবিদুর, হিটলু, আব্দুর রহিম, আইজুল, হালিম, আলতাফ আলী, আমিনুল, মান্নানসহ আরো অনেকেই এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা গত ১২দিন যাবৎ ঘোড়দৌড় মেঘাই খালের সাকোটির মুখ বন্ধ করে পানি সেচে বের করে দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছি। এই ১২দিনে প্রায় সাড়ে ৪ফিট পানি কমানোর ফলে অনেক জমি জেগে উঠেছে, এতে করে অনেকাংশেই রক্ষা পাচ্ছে আমাদেও সব্জি ক্ষেত।

আমরা যদি সরকারি কোন সহযোগিতা পাই তাহলে কৃষি আবাদ রক্ষার পাশাপাশি উপকৃত হতাম। আর সেচ প্রকল্প হতে অর্থ বরাদ্ধ/সহযোগিতা পেতে ইতিমধ্যে আমরা ইউএনও বরাবর একটি আবেদনও দিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সহযোগিতা করতে সরকারি ভাবে অথবা সেচ প্রকল্প হতে অর্থ বরাদ্ধ দেওয়ার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *