গর্ভধারণের ৭ম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল

মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি- গর্ভধারণের ৭ম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

আপনি এখন গর্ভাবস্থার সপ্তম সপ্তাহে অবস্থান করছেন, এ সপ্তাহে এসে আপনার শারীরিক এবং মানসিক অনেক রকম পরিবর্তন ঘটবে। ঠিক এই সময়ে এসে আপনাকে প্রেগন্যান্ট মায়েদের মত না দেখালেও- আপনার শরীরের ওজন খানিকটা বেড়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার এসময় ওজন কিছুটা কমেও যেতে পারে। তবে এতে খুব বেশী চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই আপনার ওজন আবারো বেড়ে যাবে। তবে, এমন অবস্থায়- আপনার ডাক্তারী পরীক্ষা নীরিক্ষার প্রয়োজন আছে। আর এই সময় থেকে গর্ভধারণের শেষ পর্যন্ত-আপনাকে একজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

৭ম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভধারণের এ সপ্তাহে এসেও আপনাকে মর্নিং সিকনেস তথা দিনের শুরুর ভাগে- বমি বমি ভাব অনুভূতির মধ্যদিয়ে যেতে হতে পারে। সাধারণত গর্ভধারণের ৬ষ্ঠ সপ্তাহ থেকে- মর্নিং সিকনেস দেখা দেয়। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে- ৪ সপ্তাহ থেকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকক্ষেত্রে গর্ভধারণের কয়েক মাস জুড়ে- দিনের যে কোন সময়েও আপনাকে এই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে- সময় কাটাতে হতে পারে ।

এসময় গন্ধপ্রবনতার কারণে গর্ভবতী মায়েরা অনেক খাবারই খেতে- এমনকি কোন কোন খাবারের গন্ধই সহ্য করতে পারেনা। অনেকের ক্ষেত্রে- গর্ভধারণের আগে যেসব গন্ধ পছন্দের ছিল- এসময় সে খাবারগুলো উটকো গন্ধ হিসেবে নাকে ধরা দিতে পারে। এমনকি- এসময় আপনার জীবন সঙ্গীর গায়ের গন্ধও আপনার কাছে অসহ্য লাগতে পারে।

গর্ভধারণের এই সময়ে এবং শেষ তিন মাসে আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা অনেকটাই স্বাভাবিক। এসময় শরীরে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার ফলে মাঝে মাঝে সাদা স্রাবও যেতে পারে। এসময় চার ভাগের একভাগ গর্ববতী মায়েদের ক্ষেত্রে স্পটিং হয়ে থাকে। তাছাড়াও- কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি বুক জ্বালা পোড়া এবং নিদ্রাহীনতা দেখা দিতে পারে। তবে সময় গড়ার সাথে সাথে এ সমস্যাগুলো দুর হয়ে যায়। তবে মনে রাখবেন এসময় যদি আপনি আপনার নিজের মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষণ না করেন- তাহলেও খুব ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই।

শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার সপ্তম সপ্তাহে- আপনার গর্ভস্থ শিশুটি এখন একটি কালজামের সমান। এসময় ভ্রুণের মাথার কাছে থাকা একটি স্ফীতি অংশ থেকে মিনিটে শত শত কোষ বেড়ে মস্তিষ্কে পরিণত হচ্ছে।

এই সময় ভ্রূণের মস্তিষ্ক এতটাই দ্রুত বিকশিত হয় যে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০টি নূতন ব্রেইন সেল তৈরি হয়ে থাকে। এসময় থেকেই আপনার গর্ভস্থ ভ্রুনটি মানুষের রুপ নিতে শুরু করেছে। বর্তমানে ভ্রূণটি লম্বায় ১ সেন্টিমিটার বা ১০ মিলিমিটার। সপ্তম সপ্তাহেই শিশুর কর্নিয়া, আইরিস, পিউপিল, লেন্স এবং রেটিনার গঠন শুরু হয়ে যায়। যা পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুরোপুরি গঠিত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে যকৃত এবং অগ্নাশয়ের গঠন শুরু হওয়ার সাথে সাথে- বাচ্চার কিডনির গঠন শুরু হলেও তা এখনও কর্মক্ষম হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে এসপ্তাহে বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারণ শুরু হলেও এখনও তা আলট্রাসাউন্ড টেস্টেও বোঝা যাবেনা।

এ সময় থেকেই আম্বিলিকাল কর্ড ভ্রূণটিকে প্লাসেন্টার সাথে সংযুক্ত করে। যার সাহায্যে শিশু অক্সিজেন ও পুষ্টি গ্রহণের সাথে সাথে শরীরের বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। সপ্তাহে করনীয় আপনার গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এসময় খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে প্রোটিন, ফলিক এসিড ও অয়রণ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দুরে থাকতে- দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি পান করুন। এসিডিটি বা বুকজ্বালাপোড়া করলে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খান এবং তৈলাক্ত ভাজাপোড়া ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

মনে রাখবেন, এ সপ্তাহে গর্ভপাতের সম্ভাবনার হার সবচেয়ে বেশি। পরিসংখান দেখা গেছে, প্রতি পাঁচটি গর্ভধারণের মধ্যে দু’টি- এ সপ্তাহে গর্ভপাত হয়ে থাকে। অন্যদিকে, এ সপ্তাহে যেহেতু সাদা স্রাব যেয়ে থাকে তাই খেয়াল করে দেখুন তাতে কোন দুর্গন্ধ আছে কিনা। যদি থাকে- তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আর স্পটিংও যদি অনেক বেশী হওয়ার সাথে সাথে ব্যাথা অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, এটিকে মিসক্যারেজের কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ডাক্তারের সাথে প্রথম সাক্ষাতের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে- বিগত কয়েক সপ্তাহে কী কী সমস্যা ফেস করেছেন তার একটি তালিকা তৈরী করে ফেলুন। সাথে সাথে ঢিলেঢালা পোষাক পরিধান ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ অভ্যাস আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য হবে মঙ্গলজনক।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ৮ম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো।

ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *