বগুড়ার শেরপুরে ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় মামলা; গ্রেপ্তার ৮

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

শহিদুল ইসলাম শাওন, শেরপুর (বগুড়া) থেকে:
বগুড়ার শেরপুরে অবৈধ বালুমহালে অভিযান চালানোর পর শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লিয়াকত আলী শেখের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ( ৩ রা অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বড়ইতলী নলডাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ইউএনওসহ দুইজন আহত হয়েছেন। ইউএনও লিয়াকত আলী শেখ অভিযোগ করে বলেন, বালুদস্যুদের ভাড়াটে লোকজন এই হামলা করেছে।

বগুড়ার শেরপুরে ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুর। ইনসেটে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী শেখ।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়েই অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। একইসঙ্গে ইউএনওসহ ওই অভিযানের সব সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জনকে এবং পরে গভীর রাতে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গজারিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মেহের আলীর ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (২৬), মৃত আজিজার রহমানের ছেলে ওসমান গনি (২৮), গজারিয়া মধ্যপাড়ার মো. জাফর প্রামাণিকের ছেলে আলম প্রামাণিক (৩৫), তোজাম প্রামাণিকের ছেলে ইব্রাহিম প্রামাণিক (২০), গোলাম প্রামাণিকের ছেলে শাহীন শাহ (২০), গোলাম নবীর ছেলে মেহেদী (২৫), খামারকান্দি ইউনিয়নের নলডেঙ্গী গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে রুবেল আহমেদ (৩৫) এবং একই গ্রামের আশরাফের ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৭)।

৪ অক্টোবর শেরপুর থানায় মামলার এজাহারভুক্ত ১৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/৮৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। শেষ খবর খবর পাওয়া পর্যন্ত শুনানী চলছিল বলে জানান শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আবুল কালাম আজাদ ।

উল্লেখ্য, ইউএনও মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, ঘটনার দিন দুপুরের পর থেকেই উপজেলার শেরুয়া বটতলা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে তার নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসময় খবর আসে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বড়ইতলী নবীনগর ও নলডাঙ্গি এলাকায় বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু, সেখানে গিয়ে কাউকে না পাওয়ার পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি খোলা হচ্ছিল। এসময় বালু উত্তোলনকারীদের ভাড়াটে লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদেরকে ঘিরে ফেলেন। একইসাথে তারা অভিযান পরিচালনাকারীদের উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে গাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে।

এসময় ইউএনও’র সাথে অভিযানে থাকা ওই দুইজন সদস্য বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়। হামলায় আহতরা হলেন-উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসের অফিস সহকারী উজ্জল মোহন্ত ও নৈশ্যপ্রহরী মুঞ্জুরুল হক। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *