কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু; শেরপুর থানার এসআই ওসমান গণিকে প্রত্যাহার

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ শিক্ষা

মৌসুমী ইসলাম:
বগুড়ার শেরপুরে নদীর মধ্যে নৌকায় জুয়া খেলার সময় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ দেয়া নিখোঁজ কলেজ শিক্ষকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গণিকে শেরপুর থানা থেকে বৃহস্পতিবার (০৮অক্টোবর) প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) মো. গাজিউর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিগত তিন মাস আগেই ওই পুলিশর এসআইকে বগুড়া সদর থানায় বদলি করা হয়। তাই বগুড়া জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

গত ০৭ অক্টোবর বুধবার বিকেলে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বাঙালী নদীর চকনশী এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার আমেনা মনসুর ডিগ্রী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তিনি ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক মণ্ডলের ছেলে। বর্তমানে শেরপুর শহরতলীর হামছায়াপুর এলাকায় স্ব-স্ত্রীক বসবাস করতেন।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ০৬ অক্টোবর মঙ্গলবার দিনগত রাত অনুমান রাত অনুমান ৯টার দিকে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা আওলাকান্দি ঘাট এলাকায় বাঙালী নদীর মধ্যে নৌকায় জুয়া খেলা চলছিল। গোপনে এই সংবাদ পেয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণির নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশি উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে গ্রেফতার এড়াতে কলেজ শিক্ষক আব্দুল হাইসহ বেশ কয়েক জুয়াড়ি নদীতে ঝাঁপ দেন। এরমধ্যে অন্যান্যরা সাঁতরিয়ে নদীর পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও ওই কলেজ শিক্ষক বাঙালী নদীতে নিখোঁজ হন। তবে এই অভিযানে কাজীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. তাছির উদ্দীন (৫০), ধুনট উপজেলার চাঁন্দিয়াড় গ্রামের হেলাল উদ্দীন (৩৮), শেরপুর পৌরশহরের দত্তপাড়া এলাকার মানিক তাম্বলী (৩৫), সুঘাট ইউনিয়নের আওলাকান্দি গ্রামের নৌকার মালিক রফিকুল ইসলামকে (৪০) ও একই ইউনিয়নের জয়লা আলাদি গ্রামের আব্দুল হান্নান খানকে (৩৫) আটক করে থানায় আনা হয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তদবিরে আব্দুল হান্নানকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ নগদ সাড়ে ৩৩হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বেশ কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হলে কলেজ শিক্ষক আব্দুল হাই বাড়িতে না আসায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েন তাঁর পরিবার। একপর্যায়ে গতকাল বুধবার সকালে নিহত কলেজ শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুন থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বামী নিখোঁজের বিষয়টি জানান এবং উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। মূলত এরপরপরেই পুলিশ বিভাগে শুরু হয় তোলপাড়। ডাকা হয় স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের। তারা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নদীতে নিখোঁজ শিক্ষককে উদ্ধারের তৎপরতা চালান। প্রায় চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অনুমান এক কিলোমিটার দূরে চকনশী খালের মুখ থেকে নিখোঁজ ওই শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করেন। জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) মো. গাজিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহত ওই কলেজ শিক্ষকের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *