বগুড়ার শেরপুরে চালু হলো ‘উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম’ রাসায়নিক কারখানা

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস, আই শাওন:

বগুড়ার শেরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো এসআর কেমিকেল কারখানা। (১৭ ডিসেম্বর) বুধবার এসআর কেমিকেল কারখানার উদ্বোধন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও বগুড়া-৬ সদর আসনের সাংসদ আলহাজ গোলাম মো. সিরাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসআর কেমিকেল ইন্ড্রাট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহানা সিরাজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসিফ সিরাজ রব্বানীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী দিতে এই কারখানায় উৎপাদিত ১০৭ মেট্রিকটন রাসায়নিক দ্রব্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসআর কেমিক্যাল কারখানায় তৈরি কস্টিক সোডা, ব্লিচিং ফাইন ও ব্লিচিং পাউডারসহ সাত ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য দেশে টেক্সটাইল ও পেপার কারখানায় সরবরাহ করে বছরে ২০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

আসিফ সিরাজ রব্বানী জানান, এ প্রতিষ্ঠানে তৈরি পণ্যের বাজার ভারত, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রয়েছে। উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই চিনা কোম্পানি (ডিজু কেমটিকস কেমিকেল কোম্পানী লিমিটেড) বছরে ১২ হাজার টন ব্লিচিং ফাইন নিতে চায়। তবে দেশে চাহিদা থাকায় প্রাথমিকভাবে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার টন চিনে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এসআর কেমিকেল কারখানার এমডি আসিফ সিরজ রব্বানী আরো জানান, বগুড়ার শেরপুরে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এ শিল্প কারখানায় এক হাজার নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. রায়হান ফেরদৌস জানান, আর্ন্তজাতিক বাজারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের মান বজায় রাখতে আধুনিক মানের গবেষণাগার নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আর এন্ড ডি শাখা। বাংলাদেশে এস আর কেমিক্যালই প্রথম ব্লিচিং ফাইন তৈরি করছে। দেশ ও বিদেশে এ রাসায়নিক দ্রব্যের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। শুধুমাত্র ৫০ শতাংশ ব্লিচিং ফাইন রপ্তানি করে বছরে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান রায়হান।

চিন থেকে আসা ২৫ প্রকৌশলী ও কর্মির পাশাপাশি দেশীয় বেশ কিছু সংখ্যক প্রকৌশলী গত দুই বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ করেছেন। চিনা মেশিন ও জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয়ে এ কোম্পানিতে যেসব রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন হবে তারমধ্যে আছে কস্টিক সোডা, ব্লিচিং ফাইন, ব্লিচিং পাউডার, হাইড্রোকো¬রিক অ্যাসিড, সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট ও তরলকৃত ক্লোরিন। রায়হার ফেরদৌস আরও জানান, এ কোম্পানিতে প্রতিদিন ব্লিচিং ফাইন ও ব্লিচিং পাউডার তৈরি হবে ৪০ টন করে। এ ছাড়া কস্টিক সোডা উৎপাদন হবে ১০০ টন, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ৩৫ টন, সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইট ১২ টন ও তরলকৃত ক্লোরিন ১০ টন।

এসব রাসায়নিক দ্রব্য টেক্সটাইল ও পেপার শিল্পে এবং পানি শোধন ও জীবানুনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানী। তিনি আরো বলেন, ১০০ বিঘা জমির ওপর এসআর গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এসআর কেমিক্যাল জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূণর্ অবদান রাখবে। এসআর গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বগুড়া- ৬ সদর আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ জানান, বহু বছর ধরেই বগুড়ায় একটি ভারি শিল্পকারখানা তৈরির চেষ্টা করছিল সরকার। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে এস আর কেমিক্যাল ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয়ে বগুড়ায় প্রতিষ্ঠা করেছে ওই কোম্পানি। তিনি আরও বলেন, এ কোম্পানি তৈরিতে সরকারের সবগুলো দপ্তর; বিশেষ করে বিদ্যুৎ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে। এসআর কেমিকেল কারখানার এমডি আসিফ সিরাজ রব্বানী জানান, এ ফ্যাক্টারির অন্যতম কাঁচামাল আর ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই সরকারি সহযোগিত ছিল। কারখানা স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনে থাকলে মাসে অন্তত ৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল সরকার পাবে বলে জানান আসিফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *