গর্ভধারণের ১৪তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ১৪তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

আপনি এখন গর্ভধারণের ১৪তম সপ্তাহে অবস্থান করছেন। গর্ভকালীন সময়কে যদি তিন ভাগে ভাগ করা হয় তাহলে আপনি এখন আছেন দ্বিতীয় ভাগের একদম প্রথম দিকে। গর্ভধারণের পুরো সময় যেহেতু মোট ৪০ সপ্তাহ, আর তাই এ সময়গুলোকে মাসে প্রকাশ না করে সপ্তাহ অনুযায়ী ভাগ করা হয়। গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহকে বেশীর ভাগ মায়ের জন্যই অপেক্ষাকৃত সহজ সময় হিসেবে ধরা হয়। কারণ, সাধারণত এ সময়টিতে বেশিরভাগ মায়েরাই গর্ভকালীন অস্বস্তিকর উপসর্গগুলো কাটিয়ে উঠে নিজেকে কর্মোদ্দম অনুভব করেন। এ কারণেই গর্ভকালীন সময়ের দ্বিতীয় ভাগকে সবচাইতে সহজ ও কিছুটা আরামের সময় বলা হয়।

১৪ তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহে এসে মায়ের জরায়ু পেলভিসের উপর এবং বাইরের দিকে বাড়তে থাকায় এসময় থেকেই গর্ভবতী মায়ের পেটের আকার কিছুটা বাড়তে শুরু করে। তবে, প্রত্যেক মায়ের শারীরিক গঠন ভিন্ন-ভিন্ন হওয়ায় পেটের আকরেও তারতম্য দেখা যেতে পারে। তবে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহে এসে মায়েদের পেট এবং ব্রেস্টের চামড়া প্রসারিত হওয়ার ফলে প্রায় ২০ ভাগ গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে চুলকানির সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় হালকা চুলকানি হওয়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। অন্যদিকে, শুষ্ক ত্বক এবং হরমোনগত পরিবর্তনের কারণেও এ সময় চুলকানি দেখা দিয়ে পারে।

অন্যদিকে, এ সপ্তাহে এসে মায়েদের জরায়ুর আকার বাড়ার সাথে সাথে পেটের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি হওয়ার ফলে, মায়েদের পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা টান টান অনুভূতি হতে পারে। তবে, স্থূল মায়েদের চাইতে এই টান টান লাগার অনুভূতিটা রোগা মায়েরা বেশী অনুভব করে থাকেন। তবে সময়ের সাথে সাথে এই অনুভূতি বেশ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এসময় সাধারণত পায়ে ভেরিকোস ভেইন দেখা দিতে পারে। ভেরিকোস ভেইনের কারণে চুলকানি বা ব্যাথা হতে পারে কিন্তু এগুলো সাধারণত তেমন ঝুঁকির কারণ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভেরিকোস ভেইনের কারণে শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে এমনটা হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার ঘটনা দেখা যায়। কারণ, এ সময় মায়েদের শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনের ফলে মাড়ি সংবেদনশীল হওয়ার ফলে সামান্য আঘাতে বা খোঁচাতেই মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। সুতরাং গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় নিয়মিত মুখের যত্ন নিতে হবে।

গর্ভধারণের ১৪ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের শরীর তার মাথার তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ভ্রূণের গলা আগের তুলনায় লম্বা হতে থাকায় ঝুঁকে থাকা মাথাটি অনেকটা সোজা হয়ে আসে। অন্যদিকে, এসময় থেকে ভ্রূণটির নড়াচড়াতেও অনেকটা পরিবর্তন আসায় ভ্রুণটি হাত পা ছুঁড়ে বা শরীর বাঁকিয়ে নড়াচড়া শুরু করে। গর্ভধারণের ১৪ তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি কিউয়ি ফলের সমান। যা লম্বায় প্রায় ৩ দশমিক ৪২ ইঞ্চির মত।

গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভের শিশুটি কখনো ভ্রু কুঁচকে চিন্তার ভঙ্গি করবে আবার হয়তো খুব রেগে যাওয়ার ভঙ্গির ন্যায় মুখ বাঁকিয়ে ভেংচি কাটার ভঙ্গিও করতে পারে। এসব ভঙ্গির মাধ্যমে শিশুর মুখের পেশীগুলোর বিকাশ হয়। এসময় থেকেই ভ্রূণটি চাবানোর ভঙ্গি রপ্ত করা শুরু করে।

গর্ভধারণের ১৪তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের মাথায় হালকা ধূসর বর্ণের চুল গজানোর সাথে সাথে চোখের ভ্রুও গজাতে শুরু করে। অন্যদিকে, ভ্রূণের হাত পা এখন পুরোপুরি বিকশিত এবং পায়ের নখের গঠন চলমান। ১৪তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণ তার কিডনির মাধ্যমে মূত্র উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। এসময় থেকেই ভ্রূণের প্লীহা থেকে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন শুরু হয়।

এ সপ্তাহে করণীয়

গর্ভধারণের ১৪তম সপ্তাহে এসে আপনার শরীর রোগ-জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এরফলে এসময় আপনার ঠাণ্ডা লাগা বা জ্বরের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। আর তাই নিজের শরীরের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নিন। কাজের সময় যেন পেটের উপর কোন চাপ না পওে সেদিকে খেয়াল রাখুন। হাঁটা এবং বসার সময় মেরুদন্ড সোজা রাখার চেষ্টা করুন।

সাংসারিক এক আধটু কাজের ফাঁকে পায়ের বিশ্রাম দিন। পায়ের উপর চাপ কমাতে পা ঝুলিয়ে বসুন। পায়ে পানি ধরা রোধে এসময় একটানা দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা পরিহার করুন।

আপনার গর্ভস্থ শিশুর ক্রমাগত বৃদ্ধিতে পেটের পেশী এবং লিগামেন্টগুলোতে টান লাগার ফলে সামান্য ব্যথা অনুভব করতে পারেন। তবে এটাকে সমস্যা হিসেবে ভাববেননা।

মনে রাখবেন, গর্ভবতী মাকে সব সময় হাসিখুশি ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি এসময় যেহেতু গর্ভবতী মায়েদের ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় তাই বারাবার খাওয়ার অভ্যাসের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহন করতে হবে। ফলে আপনার গর্ভকালীন বেশিরভাগ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ১৫তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *