মহাস্থান হাটে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

পারভীন লুনা, বগুড়া

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজার এখন বেশ চড়া। হাটে শীতের নতুন সবজি উঠলেও তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন। সর্ববৃহৎ পাইকারি এই হাটের সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ অঞ্চলের চাষীরা সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েন অনেক আগে থেকেই।

হাটে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। আলু, বেগুন, কপি, শিমসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এতে খুশি কৃষকরা। এ হাটের পাইকারি সবজি ক্রেতা চট্রগ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ফুল কপি মন প্রতি সাড়ে ৫শ টাকা দরে কিনতে হয়েছে, পাতা কপি প্রতি পিস ১৩-১৪ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। চট্রগ্রাম পর্যন্ত প্রতি পিস পাতা কপিতে আরও ৮-৯টাকা করে খরচ পড়ে এবং প্রতি কেজিতে ৬-৭ টাকা খরচ হয়।

তিনি বলেন, একসপ্তাহ আগেও এখানকার সবজির দাম কম ছিল। প্রতি মন ফুল কপি পাইকারি ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হতো। এখন কেন দাম বাড়ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই এলাকার সবজি প্রায় শেষের দিকে। বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম তাই দামও বাড়তি।

পাইকারি হাটে কর্মরত শ্রমিক এনামুল মিয়া জানান, ৫০০টাকা মন দরে ফুলকপি কিনতে হচ্ছে। ঢাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০টাকা মণ দরে। গত ১০-১২ দিন আগেও এই হাটে প্রতি মন ফুল কপি বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। এই কয়দিনের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি দামে পেঁয়াজের ফুলকা প্রতি মণ ৩০০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে ২২০০টাকা মন দরে। এতে করে কৃষকরা ভাল দাম পেলেও ঠকছেন ক্রেতারা। কারণ এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় পৌছাতে পরিবহণ খরচসহ বিভিন্ন খরচের কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে সবজি।

এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত লাউয়ের দামও এখন বাড়তি। এক সপ্তাহ আগে পাইকারি দরে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছ ১০-১২টাকায়। একসপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২০-২৫ টাকায়। এছাড়া, দাম বেড়েছে সিম, কাঁচা মরিচেরও। পাইকাররা জানায়, সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

কৃষক ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ফুলকপি, পাতাকপি ও লাউয়ের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ফুলকপির দাম বেড়েছে ৩০০-৪০০টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *