অযত্ন অবহেলায় শেরপুরের দড়িমুকুন্দ গণকবরটি

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

মৌসুমী ইসলাম:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাঁচটি গণকবর ও বধ্যভূমি রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ গণকবরটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উপজেলার দড়িমুকুন্দ গ্রামে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল তার বর্ণনা শুনে এখনও অনেকের গা শিউরে ওঠে।

১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল, শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ গ্রামে পাকবাহিনী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল। দড়িমুকুন্দ গ্রামে হানা দিয়ে পাকবাহিনী ২৪ জনকে গুলি করে হত্যা করে। জ্বালিয়ে দেয় তাদের বাড়িঘর।

আজাহার আলী ফকির, ওসমান গণি ফকির, আজিজুর রহমান, একরামুল হক, সুজার উদ্দিন, সেকেন্দার আলী, বুল মাজন মিয়া, রমজান আলী, মোখলেছুর রহমান, ইসাহাক আলী, আবেদ আলী, আলিমুদ্দিন, ছোবহান আলী, গুইয়া প্রামানিক, দলিল উদ্দিন, হাসেন আলী, উজির উদ্দিন, আয়েন উদ্দিন, আফজাল হোসেন, মোহাম্মাদ আলী, আজিমুদ্দিন, নেওয়াজ উদ্দিন, হায়দার আলী ও জপি প্রামানিক পাকসেনাদের গুলিতে শহীদ হন। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই তাদের কবর দেওয়া হয়।

এই গণকবরটিকে আরো আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বাধীনতাকামী মানুষ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ওবায়দুর রহমান জানান, ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ গ্রামে পাকিস্তানি সেনারা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। সাত পাকিস্তানি মিলিটারি দড়িমুকুন্দ গ্রামে হানা দেয়। তারা গ্রামের লোকদের ডেকে নিয়ে গ্রামের প্রবেশপথের দু’ধারে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে গুলি করে হত্যা করে ২৪ জন স্বাধীনতাকামীকে। তারপর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের প্রতিটি বাড়ি। ২০০২ সালের ২৬ মার্চ শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে একটি নামফলক তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৫ শে মার্চ গণকবরটির পূনঃনির্মানের মাধ্যমে চতুর্দিকে বাউন্ডারি করে সংরক্ষন করা হয় গণকবরটিকে।

দড়িমুকুন্দ গ্রামের বৃদ্ধ আবুল কালাম জানান, এই গণকবরটিতে বিভিন্ন সময় উপজেলার অফিসাররা দোয়া করতে আসে। ১৩ বছর আগে সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হয়েছিল। এখন প্রাচীরের প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। রং মুছে গেছে এক বছর পরেই। এরফলে সৌন্দর্য হারিয়ে গণকবরটি এখন অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। দড়িমুকুন্দ গণকবরের সৌন্দর্য ফেরাতে প্রসাশনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, প্রত্যেক বছর ২৫ শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর দড়িমুকুন্দ গণকবরে দোয়ার আয়োজন করা হয়। তাছাড়া স্থানীয় হাফেজিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে গণকবরবাসীর জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে। আর গণকবরের সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য প্রকল্প চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দেয়া আছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দড়িমুকুন্দ গণকবরের সৌন্দর্য বর্ধনসহ আধুনিকায়ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *