গর্ভধারণের ১৫তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:

আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ১৫তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

আপনি এখন গর্ভধারণের ১৫তম সপ্তাহে অবস্থান করছেন। গর্ভধারণের ১৫তম সপ্তাহে আপনাকে দেখে গর্ভবতী বলে কিছুটা আঁচ করা গেলেও আপনি এখনও স্বাচ্ছন্দ্যেই নড়াচড়া করতে পারবেন এবং বেশ কর্মোদ্দম অনুভব করবেন। গর্ভাবস্থার ১৫তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণের বিকাশ হচ্ছে খুব দ্রুত ।

১৫তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভাবস্থার ১৫তম সপ্তাহ থেকে ভ্রূণের ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মায়ের ওজন বৃদ্ধিতেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে। বিগত সপ্তাহের ন্যায় এ সপ্তাহতেও প্রায় ২০ ভাগ গর্ভবতী মায়েদের পেট এবং ব্রেস্টের আশেপাশে চুলকানির সমস্যা থেকেই যায়।

অন্যদিকে, গর্ভবস্থার ১৫তম সপ্তাহে বিগত দিনের নেয় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া সমস্যাটি দেখা যায়। এই সমস্যা গর্ভধারণের দ্বিতীয় মাস থেকে শুরু হলেও পরবর্তীতে আরো তীব্র আকার ধারণের সাথে সাথে শেষ মাস পর্যন্ত চলমান থাকে।

এসময় গর্ভবতী মায়েদের শরীরে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় বলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়ে যায়। এরফলে প্রায় ২০ ভাগ গর্ভবতী মায়েরাই এসময় নাক থেকে রক্ত পড়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন । তবে, রক্তক্ষরণ মাত্রাতিরিক্ত না হলে এতে ভয়ের কিচ্ছু নেই।

গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এটি যদি তীব্র আকার ধারণ করে তাহলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এরফলে গর্ভবতী মা কোন খাবার বা তরল পেটে রাখতে পারেনা। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই ডক্টরকে জানানো উচিত।

গর্ভধারণের ১৫ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ১৫তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের হাত প্রায় তার শরীরের সমানুপাতিক। তবে এতদিন তার পা তুলনামূলকভাবে শরীরের তুলনায় অনেকটা ছোট থাকলেও এ সপ্তাহ থেকে পা গুলো ভ্রূণের হাতের তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকে। গর্ভধারণের ১৫তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি আপেলের সমান । যা লম্বায় প্রায় ৩ দশমিক ৯৮ ইঞ্চির মত।

এ সময় আপনার ভ্রূণের স্বাদ গ্রন্থি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত হতে থাকে। পরবর্তীতে এই সংযোগের মাধ্যমেই ভ্রূণ বিভিন্ন ধরণের স্বাদ বুঝতে পারবে। অন্যদিকে, কানের বাহ্যিক গঠন বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে তার শ্রবণ যন্ত্রের ছোট ছোট হাঁড়গুলোও গঠিত হচ্ছে। এরফলে এখন থেকেই আপনার গর্ভস্থ সন্তান হালকা শব্দ বোঝার পাশাপাশি আপনার গলার স্বর, হৃদস্পন্দন এবং পরিপাকতন্ত্রের শব্দগুলোও শুনতে পারবে।

ইতিমধ্যে আপনার গর্ভস্ত সন্তানের চোখগুলো আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এসময় থেকে ভ্রূণের অবস্থান অনুযায়ী আপনার পেটের ওপর আলো ফেলা হলে, ভ্রুণটি আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এখন পর্যন্ত ভ্রূণের কঙ্কাল ছিল তরুণাস্থি বা নরম হাঁড় দিয়ে গঠিত। এ সপ্তাহ থেকেই তরুণাস্থিগুলো শক্ত হাঁড়ে পরিণত হতে থাকবে।

এ সপ্তাহে করণীয়

গর্ভধারণের ১৫তম সপ্তাহে এসে বেশিরভাগ মায়েদের ক্ষেত্রেই খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা স্বাভাবিক হয়ে আসে। তাই এখন থেকেই আপনাকে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এরফলে আপনার শিশুকে যখন বাড়তি খাবার খাওয়াতে শুরু করবেন, সে সহজেই এ স্বাদগুলো গ্রহণ করবে।

গর্ভাবস্থায় মায়েদের ওজন বৃদ্ধি পায়। মায়ের ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অথবা কম হয় তাহলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে । এসময় একটানা বেশিক্ষণ বসে না থেকে হাঁটা চলা অব্যাহত রাখুন।

পরিবারের সব সদ্যস্যদের উচিত মাকে যথাযথ মানসিক সাপোর্ট দেয়া। কারণ, গবেষণা বলে একটা সুস্থ পরিবেশই সুস্থ বাচ্চা জন্ম দানের প্রধান নিয়ামক । আর তাই গর্ভবতী মাকে সর্বদা হাসিখুশি ও চাপমুক্ত রাখুন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ১৬তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *