গর্ভধারণের ১৬তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ১৬তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ১৬তম সপ্তাহ শেষে আপনি গর্ভধারণের চার মাস পূর্ণ করবেন। বর্তমানে আপনার বাচ্চা খুব দ্রুত বড় হচ্ছে এবং গত কয়েক সপ্তাহে আপনার ওজন সম্ভবত ২ থেকে ৪ কেজি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আপনার গর্ভস্থ শিশুর ওজন দ্বিগুণের চাইতে বেশি বৃদ্ধি পাবে। তবে এই হিসাবটা শুধুই আপনার জন্য একটা দিকনির্দেশনা, এর উনিশ-বিশ হতেই পারে। গর্ভস্থ ভ্রূণকে বিভিন্ন ইনফেকশনের আঘাত থেকে রক্ষা করতে বর্তমানে আপনার শরীর আরও বেশি অ্যাম্নিওটিক ফু¬য়িড উৎপন্ন করছে।

১৬তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভধারণের ১৬তম সপ্তাহে এসে দ্বিতীয়বারের মত মা হতে যাওয়া নারীরা বাঁচ্চার হালকা নড়াচড়া টের পেয়ে থাকেন। তবে এটি যদি আপনার প্রথম গর্ভধারণ হয়, তবে বাচ্চার নড়াচড়া বুঝতে ১৮-২০ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

গর্ভাবস্থার ১৬তম সপ্তাহে এসে গর্ভবতী মায়ের শরীরের রক্তপ্রবাহ আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পাওয়ায় মায়ের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এরফলে মাকে দেখতে অনেক চকচকে লাগতে পারে। এসময় মায়ের পেটের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে লেগ ক্র্যাম্প বা পায়ে খিল ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ সমস্যা দিনের বেলা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের দিকে আরো তীব্র হয়।

গর্ভাবস্থায় অধিকাংশ মায়ের ক্ষেত্রে বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা হয়ে থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম সন্তান জন্মের সময় এ সমস্যা বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়ার তেমন কোন ক্ষতিকর প্রভাব না থাকলেও এটি অনেকের ক্ষেত্রে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গর্ভধারণের ১৬ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

ইতিমধ্যে আপনার গর্ভস্থ শিশুটি অনেকটাই মানব শিশুর রুপ ধারণ করেছে। ভ্রূণটির শরীরে এখনও যথেষ্ট চর্বি জমা না হওয়ায় তাকে খুব ক্ষীণকায় দেখায়। গর্ভধারণের ১৬তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি পেয়ারার সমান । যা লম্বায় প্রায় ৪ দশমিক ৫৭ ইঞ্চির মত।

গর্ভধারণের ১৬তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ শিশুটি তার চোখের মনিকে হালকা ডানে বামে নড়াতে পারে।
ভ্রূণের অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ড এখন পুরোপুরি বিকশিত। অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ডে সাধারণত একটি শিরা ও দুটি ধমনী থাকে যার মাধ্যমে ভ্রূণ প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে। এছাড়াও এসময় ভ্রূণের ইউরিনারি সিস্টেম তাদের নিজ নিজ কাজ করতে শুরু করে । সেই সাথে ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ চলতে থাকে। গর্ভের ভ্রূণটি যদি মেয়ে হয়ে থাকে তবে এখন থেকেই তার ডিম্বাশয়ে হাজার হাজার ডিম্বাণু উৎপন্ন হতে শুরু করে।

এ সপ্তাহে করণীয়

মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থায় ডায়েটের ব্যাপারে আপনাকে খুবই সচেতন থাকতে হবে। কারণ, এটিই আপনার উপযোগী এবং ব্যালান্সড ডায়েট শুরু করার সঠিক সময়। গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ মায়েদেরই আয়রণ সাপ্লিমেন্ট নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে এসময় আপনাকে প্রচুর পরিমানে পানি, সাথে নরম সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফলমূল খেতে হবে।
গর্ভাবস্থায় বাম পাশ ফিরে শোয়াটা সবচাইতে নিরাপদ। কারণ, বাম কাত হয়ে শোয়ার ফলে, প্ল্যাসেন্টা দিয়ে পুষ্টি ও রক্ত সহজেই বাঁচ্চার কাছে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ও আরামের ঘুম দিতে পায়ের নিচে বা পিঠে যত খুশি উপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করুন। বালিশের এলোমেলো ব্যবহার যেন আপনার ঘাড় ব্যথার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক অবস্থা পরবর্তীকালে শিশুর বিকাশে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এ কারণে গর্ভবতী মাকে সব সময় হাসিখুশি ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ১৭তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *