শেরপুরে ১ বছরে ভ্রাম্যমান আদালতে ১৭ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায়

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:

বগুড়ার শেরপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে উপজেলা প্রশাসন গত ১২ মাসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১৬৭৬টি মামলা দায়ের করেছে। যেখানে অর্থদন্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি ১৬৫৫ জন এবং কারাদন্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি ২১জন। অর্থদন্ড দেয়া মামলাগুলো থেকে জরিমানা আদায় হয়েছে ১৭লক্ষ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকা।

বা থেকে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত আলী সেখ, বর্তমান সহকারী কমিশনার ভূমি সাবরিনা শারমিন, তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি জামশেদ আলাম রানা।

গত এক বছরে চার তৃতীয়াংশ সময় ছিল করোনা আতঙ্কের। তবুও থেমে ছিলনা শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিয়াকত আলী শেখ এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম রানা ও বর্তমান কর্মরত সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। জনকল্যাণে রাত দিন মাঠে থেকেছেন তারা।

করোণা আক্রান্তদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সহ বহুবিধ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন সর্বক্ষণ।

শেরপুর উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে গত ২০২০ সালের ১ জানুয়ারী হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৩৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮, দন্ডবিধি-১৮৬০, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন-২০১৮, ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রন) আইন-২০০৫, ঔষধ আইন-১৯৪৯,পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯, বঙ্গীয় জুয়া আইন-১৮৬৭, সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষীয় ভূমি ও ইমারত (দখল ও পুনরুদ্ধার) আদেশ-১৯৭০,করাতকল লাইসেন্স বিধিমালা-২০১২,ওজন পরিমাপ ও মানদন্ড আইন-২০১৮, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন-২০১৮,বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০,পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ স্থানীয় সরকার এর বিভিন্ন ধারায় এই মামলা গুলো দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন, শেরপুর-বগুড়া কর্তৃক গত ১ জানুয়ারী-২০২০ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানের তথ্যচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

যতগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে তারমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিয়াকত আলী সেখ, ২৩৬টি মোবাইল কোর্টে ১,১১৯ জনকে ৭,৯৭৪০ টাকা জরিমানা করেন এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলাম রানা ১৩০টি মোবাইল কোর্টে ৫০৩ জনকে ৭,৫৮,৫০০/-টাকা জরিমানা করেন এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। বর্তমান কর্মরত সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন ১১ টি মোবাইল কোর্টে ৩৩ জনকে ১,৮৯,৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিয়াকত আলী সেখের সাথে কথা বললে তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে যারা সরকারি নির্দেশনা মানবেনা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে এসকল অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান কর্মরত সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন বলেন, করোনার হাত থেকে বাঁচতে শারীরিক দূরত্ব রক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে নিজ নিজ কার্যক্রম পরিচালনা করে এজন্য আমরা একটু কঠোর অবস্থানে আছি।

উল্লেখ্য, অভিযানগুলোতে শেরপুর থানা-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গ্রাম-পুলিশ, এ উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংগঠন পুশাস এর সদস্যগণ সহায়তা করে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সর্বোপরি, করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে সরকারের বিধি-নিষেধ কার্যকর করার স্বার্থে ওই অভিযানগুলি পরিচালনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *