বাংলা চ্যানেল জয়ী বগুড়ার রাব্বির লক্ষ্য এখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

পারভীন লুনা, বগুড়া

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার কিশোর রাব্বি রহমান। স্থানীয় সুবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ১৩ বছর ৬ মাস বয়সী রাব্বি। বাংলা চ্যানেল জয়ী রাব্বি রহমানের স্বপ্ন এবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। বড় হয়ে অলিম্পিক গেমস ও সাব-গেমসে অংশ নেয়ার ইচ্ছে আছে তার। বললেন, ইংলিশ চ্যানেল জয়ের স্বপ্নও দেখছি।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহ্পরীর দ্বীপ জেটি থেকে ৩০শে নভেম্বর ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার-২০২০ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ৪২ জন সাঁতারুকে পিছনে ফেলে ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করে সেন্টমার্টিন পৌঁছে প্রথম স্থান অর্জন করেন রাব্বি।

বাংলা চ্যানেল গৌরব অর্জন করা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাব্বি জানায়, সব সময় আমার ভাবনা ছিল আমি লক্ষ্যে পৌঁছাবো। বোটে আমার বাবা ছিলেন, তিনি আমাকে সব সময় সাহস দিয়েছেন। ফলে আমার ভিতরে কোনো ভয় কাজ করেনি। এক সময় যখন দ্বীপ দেখতে পাই তখন আমার কনফিডেন্ট আরো বেড়ে যায়।

বাবার কাছেই রাব্বির সাঁতার শেখা। বাড়ির পাশে একটি বড় পুকুরই তার প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাব্বির বাবা আলালুর রহমান তিব্বত বলেন, ২০১৫ সালে যখন রাব্বির বয়স মাত্র ৮ বছর, সে সময় তার সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু। শহরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়ার পুকুরে প্রতিদিন রাব্বিকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এছাড়া, বগুড়া পৌরপার্কের পুকুরে চাচা মাসুদ রানার কাছেও সাঁতারের অনেক কৌশল শেখে রাব্বি। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একের পর এক সাফল্যও পায়। ২০১৯ সালে জাতীয় শিশু একাডেমি আয়োজিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে স্বর্ণপদক জয় করে রাব্বি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ তার গলায় সোনার মেডেল পরিয়ে দেন।

রাব্বির বাবা আলালুর রহমান তিব্বত নিজেও একজন সাঁতারু। তার হাতেও উঠেছে অনেক সাফল্যের পুরস্কার। এক সময় জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারু ছিলেন। জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্চ পদকও জিতেছিলেন। বগুড়া জেলা সুইমিংপুলের সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কিছুদিন। এরপর সুইমিংপুল বন্ধ হয়ে গেলে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে বগুড়ার টিআর পরিবহণ নামে একটি বাস কাউন্টারে চাকরি নেন তিব্বত। তিনি বলেন, আর্থিক দৈন্য দশা থাকলেও ছেলের সাঁতার প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি। দুই মেয়ে, এক ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার।

রাব্বির এমন গৌরব অর্জনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেন তার বাবার কর্মস্থল টিআর পরিবহণের কর্মকর্তারা। সমুদ্র বিজয় শেষে টিআর পরিবহনের বাসে চড়েই রাব্বি বগুড়ায় নামে। কিশোর সাঁতারু রাব্বিকে সংবর্ধনা প্রদান করেন বগুড়া সদর আসনের জাতীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ। এসময় এমপি সিরাজ সাঁতারু রাব্বির সারা জীবনের পড়াশোনার ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন। বগুড়া শহরের ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান জুয়েল তার হাসপাতালে রাব্বিকে আজীবন ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাব্বির এমন অর্জন শুধু তার একার নয়, শুধু বগুড়াবাসীর নয়। এই অর্জন সারাদেশের। তবে আমি অবাক হয়েছি বগুড়া জেলা প্রশাসন কিংবা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি। রাব্বি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সম্পদ। এই কিশোর সাঁতারুকে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে সে একদিন দেশের জন্য অনেক অনেক সম্মান বয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *