গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহ শেষে আপনি এখন পূর্ণ চার মাসের গর্ভবতী। ইতিমধ্যে, যেহেতু আপনি গর্ভধারণের প্রায় অর্ধেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছেন, বাকি পথ পাড়ি দিতে আপনাকে আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি যদি স্বাভাবিক প্রসব চান তাহলে এর প্রতি আগ্রহী ডাক্তার, এবং কোন হাসপাতালে ডেলিভারি করাতে চান এসব ঠিক করতে হবে।

তবে মনে রাখবেন, আচমকা বিপদে আপনার স্বাভাবিক প্রসব করার স্বপ্ন পুরণ নাও হতে পারে। অন্যদিকে, আপনার পছন্দের সাথে না মিললেও একজন ডাক্তারের কাছেই বারবার যেতে হবে এমনটা নয়। আপনি গর্ভকালীন সময়ে নিজের চাহিদার সাথে মেলানোর জন্য একাধিকবার ডাক্তার পরিবর্তন করতে পারেন।

১৭তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ
গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহে এসে মায়ের জরায়ু বৃদ্ধি পেয়ে নাভির মাঝামাঝি চলে আসে। বাড়ন্ত জরায়ুকে জায়গা করে দিতে আপনার শরীরের অন্ত্রগুলো পেটের বিভিন্ন অংশে সরে যায়। এই স্থান পরিবর্তনের কারণে এসময় মায়েদের বদহজম বা বুক জ্বালা পোড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

গর্ভাবস্থার ১৭তম সপ্তাহে এসে মায়েরা পেটের ভেতর শিশুর উপস্থিতি টের পেতে শুরু করেন। প্রথমবার হবু মায়েদের ক্ষেত্রে পেটের মধ্যে প্রজাপতি ওড়ার ন্যায় অনুভূতি হয়। পাশাপাশি গর্ভের শিশুর নড়াচড়ার ফলে পেটে বুদবুদ ওঠার মত মনে হতে পারে।

গর্ভাবস্থার ৬ থেকে ৭ মাসের দিকে চামড়ার উপর স্ট্রেচ মার্ক বা ফাটা দাগ দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি আরো আগে দেখা দিতে পারে। ফাটা দাগগুলো হালকা গোলাপি বর্ণ ধারণের সাথে সাথে চুলকানি থাকতে পারে। ধীরে ধীরে দাগগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বাড়তে থাকে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শরীরের চর্বিযুক্ত স্থানে এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়। অন্যদিকে, এসময় মায়ের পেট দ্রুত বাড়তে থাকায় পেট ও বুকের মাঝামাঝি কালো দাগ দেখা দিতে পারে। প্রসবের পর এগুলো ধীরে ধীরে কমে আসে।

গর্ভাবস্থার ১৭তম সপ্তাহ থেকে কারো কারো ক্ষেত্রে জরায়ুর অনিয়মিত সংকোচন বা ফলস লেবার পেইন দেখা দিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ আসল প্রসবের লক্ষণ না হলেও মায়ের শরীরকে আসল প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে।

প্রসব বেদনার মত এ ধরনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকেনা বা তীব্র হয়না। এ ব্যথা সাধারণত ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ধরে চলতে পারে। তবে ঘণ্টায় একবার বা দুবারের বেশী হয়না। বেশীরভাগ সময়ই শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করলে বা বিশ্রাম নিলে এটি চলে যায়।

গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহে এসে সায়াটিক নার্ভের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় কোমর বা পিঠের মাঝ বরাবর ব্যথা হয়। এ ব্যাথা কখনো কখনো পায়ের দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। সাধারণত রাতের দিকে এ ধরনের ব্যাথা বেশী অনুভুত হয়। গর্ভাবস্থায় এ ব্যাথা হওয়া স্বাভাবিক। তারপরও এ ধরনের ব্যাথা হলে ডাক্তারকে জানানো উচিত।

খুশির খবর হলো এসময় থেকেই আপনার চুল পড়ার হার কমে যাওয়ার সাথে সাথে চুল আরো ঘন আর উজ্জ্বল হতে শুরু করবে। গর্ভাবস্থায় হরমোনগত পরিবর্তনের ফলে মায়েদের শরীরে এ ধরণের পরিবর্তনগুলো ঘটে থাকে।

গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি
ইতিমধ্যে আপনার গর্ভস্থ শিশুটির শরীরে চর্বির স্তর জমতে শুরু করেছে। এ সময় থেকে বাকি গর্ভকালীন সময় জুড়েই ভ্রূণের শরীরে চর্বি জমা হতে থাকে, এরফলে বাচ্চার ওজন খুব দ্রুত বাড়ে। গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি ডালিমের সমান । যা লম্বায় প্রায় ৫ দশমিক ১২ ইঞ্চির মত।

গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্ত শিশুটি খাবার গেলার দক্ষতা অর্জন করে থাকে। তাছাড়াও, ভ্রূণের মস্তিষ্ক এ সপ্তাহ থেকেই তার হৃদপিণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

গর্ভস্থ শিশুরা না ঘামলেও গর্ভধারণের ১৭তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ শিশুর শরীরে ঘর্মগ্রন্থির গঠন শুরু হয়। অন্যদিকে, আপনার গর্ভস্থ শিশুর শক্ত হতে থাকা হাঁড়গুলো একটির সাথে আরেকটি জোড়া লাগতে থাকে।

এ সপ্তাহে করনীয়

মনে রাখবেন গর্ভস্থ ভ্রূণের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার শরীরের ওজনের ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হতে পারে। এসমস্যা এড়াতে সমান তলা বিশিষ্ট জুতা পরিধান করুন।

গর্ভাবস্থার ১৭তম সপ্তাহে এসে মায়ের চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ড্রপ ব্যাবহার করুন। এছাড়াও যদি আপনার লেন্স পড়ার অভ্যাস থাকে, তবে কম সময়ের জন্য পড়ুন এবং লেন্স বাদে চশমা ব্যাবহারের চেষ্টা করুন।

গর্ভাবস্থায় হওয়া ফাটা দাগ প্রতিরোধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। আর তাই এসবের পেছনে অযথা টাকা অপচয় করবেন না। তবে, গর্ভাবস্থায় দেখা দেয়া চুলকানি উপশমে তেল বা লোশন ব্যাবহার করা যেতে পারে।

গর্ভাবস্থার ১৭তম সপ্তাহে এসে অনেকক্ষণ চিত হয়ে শুয়ে থাকলে মায়েদের জ্ঞান হারানোর মতো অনুভূতি হতে পারে, এমনটা হলে কাত ঘুরে শুয়ে পড়ুন। একটি বিষয় বিশেষভাবে বলা দরকার যে, আপনার যদি আরও সন্তান থেকে থাকে, তাহলে নতুন অতিথিকে নিয়ে তার সাথে গল্প করুন। কারণ, অনেক বাচ্চাই তাদের নতুন ভাই/বোনের সাথে বাবা মাকে শেয়ার করতে চায় না।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ১৮তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *