গর্ভধারণের ১৮তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ১৮তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ১৭ (সতের) তম সপ্তাহ শেষেও যদি আপনার বাবুর নড়াচড়া টের না পান তবে এতেও কোন সমস্যা নেই। কারণ, অধিকাংশ মায়েরাই ১৮-২৪ সপ্তাহের মধ্যে যেকোন সময় শিশুর নড়াচড়া অনুভব করতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় কখনো আনন্দ, কখনো মন খারাপ, আবার কখনো উত্তেজনা আপনাকে ছেয়ে ফেলছে।

১৮তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ
গর্ভাবস্থার ১৮তম সপ্তাহে এসে গর্ভের শিশুর ওজন বৃদ্ধি পাওয়ায় মায়ের পেটের আকার বাড়তে থাকে। তবে কারো যদি মনে হয় পেটের আকারে কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছেনা এ ক্ষেত্রেও দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থায় হওয়া অন্যান্য সমস্যার ন্যায় ব্যাক পেইন সমস্যাও হরমোন পরিবর্তনের কারনেই হয়ে থাকে।

এরফলে হাঁটার সময়, অনেকক্ষণ বসে থাকলে কিংবা চেয়ার থেকে ওঠার সময়, বা কোন কিছু তোলার সময় মায়েরা ব্যাক পেইন বা পিঠ ব্যাথা অনুভব করে থাকেন।
গর্ভাবস্থায় মায়েদের হার্ট রেট বেড়ে যাওয়ার কারণে হৃদপিণ্ড প্রতি মিনিটে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশী রক্ত পাম্প করে। এরফলে মায়েরদের মাথা ঘুরে ওঠা, অচেতন অনুভব হওয়া বা কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারানোর মত অনুভুতি হতে পারে। হঠাৎ করে বসা বা দাঁড়ানো কিংবা গর্ভাবস্থার শেষের দিকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকার কারনেও এ ধরনের অনুভুতি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে রক্ত ও তরল উৎপন্ন হওয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। তবে, এতে ভয়ের কিছু নেই । তবে, যদি শুধুমাত্র এক পা ফুলে যায় তাহলে অতিসত্বর ডক্টরকে জানান। গর্ভাবস্থার ১৮তম সপ্তাহে এসে আপনি অনেকটাই সতেজ অনুভব করলেও ঘুমের সমস্যা এখনো কাটেনি।

গর্ভধারণের ১৮ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভধারণের ১৮তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্ত শিশুটির ভ্রু, তার চোখের পাতার লোমগুলো পুরোপুরি সুগঠিত হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ১৮তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি ক্যাপ্সিকামের সমান। যা লম্বায় প্রায় ৫ দশমিক ৫৯ ইঞ্চির মত। ১৮ তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণটির চেহারা অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠার সাথে সাথে এখন থেকেই সে ঘুমানোর অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করে ।

এ সময় থেকেই ভ্রূণটির মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের ফলে হাই তোলা এবং হেঁচকি তোলা শুরু করে। এ বিষয়গুলো গর্ভবতী মাও অনুভব করে থাকেন।

গর্ভধারণের ১৮তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ শিশুটির শ্রবণ যন্ত্র এতটাই বিকশিত হয় যে, এ সময় উচ্চ কোন শব্দ হলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাশাপাশি এসময় থেকেই শিশুটি আপনার হৃদস্পন্দন খুব ভালোভাবে শুনতে পায় ।

গর্ভধারণের ১৮তম সপ্তাহে এসে শিশুটি মেয়ে না ছেলে তা আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে জানা যায়। তবে আলট্রাসাউন্ডে শিশুটির লিঙ্গ বোঝা যাবে কিনা তা নির্ভর করে আলট্রাসাউন্ড করার সময় ভ্রূণটির অবস্থানের উপর।

এসময় থেকেই ভ্রূণের স্নায়ুগুলোর উপর মায়েলিন নামক একধরনের আবরণ গঠিত হতে থাকে। এটি স্নায়ু কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগকে আরও ত্বরান্বিত করে। ফলে মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বাকি অংশে সিগন্যাল পরিবহন এখন আরো জোরালো হয়। এই প্রতিক্রিয়াটি ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ সপ্তাহে করনীয়
সাধারণত ব্যাক পেইন হলে গর্ভবতী মায়েরা শুয়ে থাকে। তবে এ অবস্থায় খুব বেশী সময় শুয়ে থাকা উচিত নয়। কারণ, শুয়ে থাকলে ব্যাক পেইনের তেমন কোন উপশম না হয়ে বরং তা আরো বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে শরীরচর্চা খুবই উপকারী। তবে তা অবশ্যই ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে।

যদিও সোজা হয়ে দাঁড়ানোটা এসময় একটু কঠিন, তারপরও সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। আর বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকে কিছুক্ষন পর পর বসে বিশ্রাম নিন।

শোয়া বা বসা থেকে দ্রুত না ওঠার চেষ্টা করুন। শোয়া বা ওঠার আগে কিছুক্ষন বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকুন। তারপর আস্তে আস্তে শুয়ে পড়ুন বা উঠে যান। এতে মাথা ঘোরানো অনুভূতি কম হবে।

গর্ভের শিশুকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এসময় অ্যানোমালি স্ক্যান করা হয়। এই স্ক্যানে গর্ভের ভ্রূণের কোন ক্ষতি না হলেও আপনার কিছুটা অস্বস্তি লাগতে পারে। কারণ এ স্ক্যান করতে মায়ের পেটে কিছুটা চাপ পড়ে।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ১৯তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *