শেরপুরে পৌর নির্বাচন: মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণায় সরগরম শহর

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ রাজনীতি সংবাদ

এস,আই শাওন, শেরপুর (বগুড়া):

বগুড়ার শেরপুর পৌর নির্বাচনে বড় দু’দলের অভ্যান্তরিন অসন্তোষ, কাঙ্খিত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা না পেয়ে সাধারণ ভোটাররা বিমুখ হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের বাধা হতে পারে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী। এদিকে মহামারী করোনা ও শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে গভীররাত অবধি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। সেই সাথে গানে গানে, নানা ছন্দে বিভিন্ন কৌশলে মাইকে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। তবে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে টেনশনে রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী নেতাকর্মীরা। পৌর এলাকার প্রতিটি সড়ক ও মোড়ের অলিগলিসহ বাড়ি, দোকানপাট ছেয়ে গেছে পোস্টারে পোস্টারে। কোথাও একটু জায়গাও ফাঁকা নেই। আর পোস্টার ছাপাতে ব্যস্ত রয়েছে প্রিন্টিং প্রেসগুলো। নির্বাচন ঘিরে বেড়ে গেছে পৌরসভার সৌন্দর্য ও ব্যস্ততা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রচার-প্রচারণায় পোস্টারগুলো নির্বাচনি আমেজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে ভোটের লড়াইয়ে নিজেদের অস্তিত্বও জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। শহরের অলিগলিসহ চায়ের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরও পোস্টার। চলছে উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা, মিছিল, গণসংযোগ ও মনমুগ্ধকর মাইকিং প্রচারণা। তাছাড়া কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজের পক্ষে ভোট নিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের হুমকী-ধামকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নৌকা প্রতিকে ভোট প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় শেরপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে। এ অবস্থায় সব ধরনের সংঘাত এড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায় সাধারণ ভোটাররা। এদিকে ভোটাররাও মেয়র প্রার্থীদের বিজয় দেখতে চুল-ছেড়া বিশ্লেষন করে হিসেব নিকেষ কষছেন। এ নিবার্চনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার, বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু, স্বতন্ত্র প্রার্থী জগ প্রতীক নিয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক(বর্তমানে বহিস্কৃত) ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ¦ এমরান কামাল ইমরান হাত পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন। এ ছাড়াও শেরপুর পৌরসভায় সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন এবং ৯টি ওয়ার্ডে ৩৬জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. আব্দুস সাত্তার (বামে), বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু (মাঝে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মো. জানে আলম খোকা (ডানে)।

গত ডিসেম্বর মাসে শেরপুর শহর আওয়ামীলীগের বর্ধিতসভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. আব্দুস সাত্তার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেককে দলীয় সমর্থন না দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার রহমান মিন্টুকে সমর্থন দেয়। এতে সমর্থন বঞ্চিতদের মধ্যে বর্তমান মেয়র আব্দুস সাত্তারকে দলীয় মনোনয়ন দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। এতে আওয়ামীলীগের মধ্যে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হওয়ার কারণে সাধারণ ভোটাররা বিপাকে পড়েছে। তবে বর্তমান মেয়র ইতিপূর্বে নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয় হয়ে শেরপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও কাঙ্খিত নাগরিক সেবা না দেয়ায় উপজেলা ও শহর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নির্বাচনি প্রচারনায় থাকলেও আওয়ামীলীগ সমর্থীত সাধারণ ভোটাররা বিমুখ রয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মীরা জানান। তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী পুনরায় নির্বাচিত হলে শেরপুর পৌরসভায় তার আমলে বরাদ্দকৃত ও চলমান প্রকল্প তথা উন্নয়ন কর্মকান্ডের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌর নাগরিকদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে শেরপুর উপজেলা বিএনপি সাবেক আহবায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ¦ জানে আলম খোকা দীর্ঘদিন ধরে শেরপুরের বিএনপি’র কান্ডারি ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। এ নির্বাচনে জানে আলম খোকাকে বিএনপি’র দলীয় মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জগ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছেন। তাই এ নির্বাচনে খোকা অংশগ্রহন করায় বিএনপি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এতে করে তার ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় সমর্থিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে নির্বাচনী মাঠে বেশ সাড়া ফেলেছেন। ইতিমধ্যে পৌরসভার সাধারণ ভোটারদের মাঝে বেশ জোরেসোরে আলোচনায় রয়েছে তার নাম। অপরদিকে স্বাধীন কুমার কুন্ডু বিএনপি দলীয় প্রার্থী হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্দ হয়ে সতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ জানে আলম খোকার দিকে ঝুকে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন না হওয়ায় ও দলীয় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর প্রার্থী নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত, বিএনপি’র প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু’র পক্ষে বিএনপি’র একটা বড় অংশের নেতাকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহন না থাকা, দলীয় অসন্তোষ, দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকায় বড় দুই দলের নানাবিধ সমস্যার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাল্লাই অনেকটা ভারী হচ্ছে আর সেই কারণে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর জয়ের পথে বাধা হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে পাল্টে যেতে পারে আওয়ামীলীগ-বিএনপি দলীয় প্রার্থীর হিসাব-নিকাশ এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ১৮৭৬ সালের ১ এপ্রিলে ১০.৩৯৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। লোকসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ৯ টি ওয়ার্ড ও ১৯ টি মহল্লায় ৪৯৪৬ খানার সংখ্যা নিয়ে গঠিত পৌর এলাকায় শিক্ষার হার প্রায় ৭০%। মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭৫৪ জন। তারমধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৪১৫, মহিলা ১২ হাজার ৩৩৯। ৯টি ওয়ার্ডে ১১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ন রয়েছে ৯টি কেন্দ্র। আগামী ১৬ জানুয়ারী শনিবার শেরপুর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *