স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়

জাতীয় প্রধান খবর

নবদিন ডেস্ক:

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসমুক্ত রেখে দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন টানা ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার প্রত্যাবর্তন দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, যে এ জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, স্বাধীনতাকে যারা ব্যর্থ করতে চেয়েছিল আজ তারাই ব্যর্থ, আজকের বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে- এই মর্যাদা ধরে রেখে আমরা বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা এই জাতিকে ভালোবেসেছেন। আমাদের একটাই চিন্তা যে জাতির জন্য আমাদের মহান নেতা জীবন দিয়ে গেছেন। সেই জাতির কল্যাণ করা, তাদের জীবন সুন্দর করা এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন কীভাবে হবে সেই পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান করে দিয়েছি। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ’৪১ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেটা দিয়েছি। ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শত বছর উদযাপন হবে, আগামী প্রজন্ম কীভাবে তা উদযাপন করবে, সেই কথা চিন্তা করে আমরা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সেগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এগুলোর হাত থেকে দেশকে মুক্ত রেখে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু সরকারি হিসেবে তাকে ১২ তারিখে গ্রেফতার দেখায়। তখন সবসময় আগে নিয়ে যেত তার একদিন পর গ্রেফতার দেখাত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের পর থেকে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবরণ করতে হয়। বঙ্গবন্ধু যেখানেই গেছেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবার তিনি জামিন পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য কাজ করতেন বলেই শাসকরা বারবার তাকে জেলে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার সব নির্দেশনা ছিল জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণে। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে তিনি একটি স্বনির্ভর বাংলা গড়ে তুলেছিলেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ও ’৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দেয়া দুটি ভাষণ বার বার শুনতে দলীয় নেতাকর্মী ও নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ দুটি ভাষণ শুনলে রাজনীতি করার একটি প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা সবাই পাবেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান কারাগারে বন্দি থেকে মুক্ত হওয়ার পর লন্ডন হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে তিনি পরিবারের কাছে যাননি। তিনি সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে ছুটে গিয়েছিলেন। জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করার সময় বঙ্গবন্ধুর হাতে কোনো লিখিত বক্তব্য না থাকলেও তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেয়া ভাষণে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মানুষ, জাতির প্রতি, মানুষের প্রতি কতটা নিবেদিত হলে, মানুষকে কতটা ভালোবাসলে এভাবে আত্মত্যাগ করতে পারে, এভাবে মানুষের কথা বলতে পারে তার প্রমাণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এদেশকে তিনি চিনতেন জানতেন ভালোবাসতেন এবং দেশের কল্যাণের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। এই সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যÑ মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক,আবদুল মতিন খসরু, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *