‘স্বপ্নের ঠিকানা’ পেল শেরপুরের ১৬৩টি পরিবার

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে জমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। এ মাসে ৭০ হাজারের পাশাপাশি আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে।

এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নে ২০টি, গাড়িদহ ইউনিয়নে ০৬টি,খামারকান্দি ইউনিয়নে ০৩টি, খানপুর ইউনিয়নে ২২টি, মির্জাপুর ইউনিয়নে ১০টি, বিলাশপুর ইউনিয়নে ২৮টি, ভবানীপুর ইউনিয়নে ৪১টি, সীমাবাড়ি ইউনিয়নে ৩৩টিসহ মোট ১৬৩টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই উপহার পেলেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী শেখ বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশের ন্যায় শেরপুর উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্যও পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলায় ১৬৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আজ আনুষ্ঠানিকভাবে েএ ঘর পেলেন।

শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সরকারি খাস জমির ওপর গৃহনির্মাণ করে জমির দলিলসহ ১৬৩ টি উপকারভোগীর কাছে আজ হস্তান্তর করা হলো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামসুন্নাহার শিউলী বলেন, ঘরগুলো নির্মাণ কাজের শুরু থেকে স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বগুড়া জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান মজনু নিয়মিতভাবে নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করেছেন । ইউএনও নিজেই উপস্থিত থেকে দেখভাল করছেন। কাজে যেন কোনো রকমের অনিয়ম না হয় সেই দিকে তিনি সর্বদাই বিশেষ নজর রেখেছেন। আজ এ ঘরগুলো হস্তান্তর করা হলো।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আজ উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে এ তালিকার সবাই এই সুবিধা পাবে।

উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৮টি বাড়ি। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনশীল বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ৩৮ হাজার ৫৮৬টি বাড়ি এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ৩ হাজার ৬৫টি বাড়ি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পগুলোতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *