বগুড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

পারভীন লুনা, বগুড়া:

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বগুড়ার সোনাতলা থানার উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা হয়েছে। সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরী বাদী হয়ে রোববার (২৪ জানুয়ারি) মামলা করেন।

আসামীর নাম আলমগীর হোসেন। এসআই আলমগীরের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শৈলীসবলা গ্রামে। ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সুদীপ কুমার চৌধুরী।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর ১৯৯৭ সালের ২৪ এপ্রিল ডিএমপির দাঙ্গা দমন বিভাগে কনস্টেবল পদে যোগ দেন। পদোন্নতির পর ২০১৩ সালের ২১ জুলাই তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় এসআই হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে তিনি বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) এসআই পদে যোগ দেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডিবিতেই কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সোনাতলা থানায় একই পদে কর্মরত।

দুদক সূত্র জানায়, এসআই আলমগীরের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য তাকে দুদক থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। ২৪ নভেম্বর তিনি নোটিশ গ্রহণ করেন। গত বছরের ১৩ জানুয়ারি তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে স্থাবর ও অস্থাবর মিলে ৭২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮ টাকার সম্পদ অর্জনের হিসাব দেন।

দুদক বলছে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ যাচাই ও অনুসন্ধানে এসআই আলমগীর ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২২ বছরে পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে খরচ করেছেন ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। এতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৮ টাকা। তার বৈধ আয় ৪৫ লাখ ২ হাজার ৭০১ টাকা। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের পরিমাণ ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৭ টাকা।দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা সুদীপ কুমার চৌধুরী বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে এসআই আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪–এর ৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *