গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্ত শিশুটি, সারাদিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে এবং বাকি ৬ ঘণ্টা জেগে থাকে। যারফলে এসময় বাচ্চার নড়াচড়া একটু কমই বোঝা যাবে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। অন্যদিকে, এসময়ে এসেও আপনি প্রতি সপ্তাহে আরো নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন।

১৯তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহে এসে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি দ্রুত হয় বলে এসময় মায়েদের ক্লান্ত লাগার অনুভূতি ফিরে আসতে পারে। আগেই বলা হয়েছে গর্ভাবস্থার ১৮/১৯ সপ্তাহ থেকে লেগ ক্র্যাম্প বা পায়ে খিল ধরার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এসময় মায়েদের শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে রক্তনালীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পা থেকে হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হয় বলে, এসময় পায়ে খিল ধরার সমস্যা দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থার ১৯তম সপ্তাহে এসেও গর্ভবতী মায়েরা হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করলে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভব করতে পারেন। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন শুরু হলে বসে পড়ুন এবং যদি বসে থাকা অবস্থায় ব্যাথা হয় তবে দাঁড়িয়ে পড়ুন বা হাঁটা চলা করুন। কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলেই এর থেকে স্বস্তি পাবেন।
এই ধরণের ব্যাথা সাধারণত তেমন কোন উদ্বেগের বিষয় নয়, তবে যদি এর সাথে জ্বর, কাঁপুনি বা রক্তপাতের মত উপসর্গ থাকে তাহলে ডাক্তারকে জানান।

গর্ভধারণের শুরু থেকেই গর্ভবতী মায়েদের শরীরে কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ হরমোনের পরিবর্তনে মায়েদের কোমরের জয়েন্ট এবং লিগামেন্টগুলো নরম এবং ঢিলা হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের ভার বহনে জয়েন্ট এবং লিগামেন্টগুলোর ক্ষমতা কমে যায়। এরফলে, হাঁটার সময়ে অথবা অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকলে কিংবা হঠাৎ করে চেয়ার থেকে উঠলে বা কোন কিছু তোলার সময় কোমরে ব্যাথা অনুভূত হয়।

গর্ভধারণের ১৯ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্ত শিশুটি প্রায় পুরোটা সময় ঘুমিয়েই কাটাবে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ, বাচ্চা পরিপক্ক এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠার জন্য এ ঘুম খুবই জরুরী। অন্যদিকে, ১৯তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি জাম্বুরার সমান। যা লম্বায় প্রায় ৬ দশমিক ২ ইঞ্চির মত।

গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ শিশুর পঞ্চ ইন্দ্রিয় সচল হতে শুরু করে। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, বাচ্চার জন্মের পর প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তার কোন দাঁত দেখা না গেলেও গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহে এসেই ভ্রূণের দুধ দাঁতের পেছনে স্থায়ী দাঁত গঠন শুরু হয়ে যায়।

অন্যদিকে, শিশুটি ছেলে বা মেয়ে হলে এসময় থেকেই আলট্রাসাউন্ডে তা বোঝা যায়। তবে, বিষয়টি নির্ভর করবে আলট্রাসাউন্ড করার সময় ভ্রূণটির অবস্থানের উপর। ভ্রূণটি মেয়ে হলে এসপ্তাহের মধ্যেই তার ডিম্বাশয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ডিম্বাণু জমা হয়ে যায়।

পাশাপাশি এ সময় থেকেই ভ্রূণের মাথায় চুল উঠতে শুরু করে এবং ফুসফুসের প্রধান দুটি বায়ু প্রবাহী নালীর শাখা প্রশাখার গঠন শুরু হয়।

এ সপ্তাহে করনীয়

গর্ভাবস্থায় আপনার খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার থাকছে কিনা খেয়াল রাখুন। কারণ, বাচ্চার সঠিক বৃদ্ধির জন্য সুষম খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

গর্ভাবস্থায় মায়েদের ওজন বেড়ে যায় বলে- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রিম্যাচিউর শিশু প্রসবসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। একারণে, এসময় চিনি ও শর্করা জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করুন।

বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা এড়াতে ৩ বেলা ভরপেটে না খেয়ে বিরতি দিয়ে অল্প অল্প খাবার খান। গর্ভের শিশুকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য এ সপ্তাহে অ্যানোমালি স্ক্যান করার পরামর্শ দেয়া হয়। কারণ, গর্ভাবস্থার ১৮ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে অ্যানোমালি স্ক্যান করার উপযুক্ত সময় ।

আগেই বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি কমন সমস্যা। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পানি, সাথে নরম শাক সবজি, ডাল, বাদাম, দুধ, ডিমসহ প্রচুর পরিমাণে ফলমূল খাওয়া অব্যাহত রাখুন।

আশে পাশের মানুষের হাজারো উপদেশ শুনতে গিয়ে প্রথম বারের মত মা হওয়া নারীরা এসময় অস্বস্তিতে পড়েন। এসমস্যা এড়াতে গর্ভকালীন সময়ে যুগোপযোগী বিভিন্ন লেখা পড়ুন। বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে করণীয় জেনে নিয়ে সামনের কঠিন পথ পাড়ি দিতে নিজেকে প্রস্তুত করুন।

আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ২০ তম সপ্তাহের সময়টাকে মায়েদের জন্য স্মরণীয় ক্ষণ বলা হয়ে থাকে। কারণ, ইতিমধ্যে যারা ভ্রূণের নড়াচড়া বুঝতে পারেননি তারাও হয়তো এই সপ্তাহ থেকেই কাঙ্খিত সেই বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করতে শুরু করে। কারণ, গর্ভধারণের ১৮-২৪ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর নড়াচড়া বোঝার উপযুক্ত সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *