বগুড়ার শেরপুরে ‘শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধু’ ঠাঁই পাবে গিনেস বুকে

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

মৌসুমী ইসলাম:

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে সর্ববৃহৎ শস্য চিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর নাম লেখা হতে যাচ্ছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীর আয়োজন হিসেবে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ‘শস্য চিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’।

এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে ‘শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধু’ ১২০ বিঘা জমির এক বিশাল পোট্রেটে শস্য চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

বালেন্দা সরকারির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আহবায়ক এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু প্রমূখ।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সার্বক্ষনিক চিন্তা ছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। তাই সবার আগে তিনি নজর দিয়েছিলেন কৃষি খাতের দিকে। আর এ জন্যই আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বনির্ভর। তিনি ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি, পরিবেশ ও সমবায় মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কৃষি ছাড়া এদেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন সম্ভব না। তার ভাবনার সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার সুফল আজ আমাদের চোখের সামনে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই পথ অনুসরণ করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পেরিয়ে এসেছি সাফল্যের এই সেনালী পথ।

জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের ব্যপক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা স্বত্ত্বেও করোনা দুর্যোগের কারণে আমরা যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করতে পারিনি। তাই কৃষি প্রধান সবুজ বাংলার বিশাল ক্যানভাসকে ব্যবহার করে প্রথম বারের মতো আমরা বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে একটি নতুন ধরনের চিত্রকর্ম আঁকতে যাচ্ছি । যা বিশ্ববাসীর সামনে আবারো মাটি ও মানুষের তথা কৃষক দরদী হয়ে উঠবে বঙ্গবন্ধু। এটি হবে জাতির পিতার শত জন্মবার্ষিকীর এক অনন্য উদযাপন। সেই সাথে গোটাবিশ্বে সর্ব প্রথম শস্যচিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই নেবে এবং দেশের জন্য অর্জিত হবে একটি নতুন ইতিহাস।

উল্লেখ্য, কৃষিজমিকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করে চীন থেকে আনা বেগুনি ধান এবং দেশীয় সবুজ জনকরাজ সোনালী এই দুই রংয়ের ধানের চারার সুপরিকল্পিত ও শৈল্পিক চাষের মাধ্যমে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিতব্য ‘শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধু’ ভিন্নরকম এই চিত্রকর্মের উদ্দেশ্য গিনেজ বুক রেকর্ড করা। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র ২০১৯ সালে চীনে তৈরি করা হয়, যার আয়তন ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গফুট। বাংলাদেশের শস্যচিত্রের আয়তন হবে প্রায় ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট বা ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার। শস্যচিত্রটির দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার ও প্রস্থ ৩০০ মিটার। ধান পাকার পর গোঁফ, চোখ, চুল, ভ্রু খয়েরি আর অন্য অংশ সোনালি রঙের হবে। ওপর থেকে মাঠের মধ্যে স্পষ্ট প্রতিকৃতি দেখা যাবে।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’-এর ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় দলিল গিনেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ১৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে নতুন এই বিশ্বরেকর্ড অর্জন উদযাপন করা হবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *