গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:
আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ২০ তম সপ্তাহের সময়টাকে মায়েদের জন্য স্মরণীয় ক্ষণ বলা হয়ে থাকে। কারণ, ইতিমধ্যে যারা ভ্রূণের নড়াচড়া বুঝতে পারেননি তারাও হয়তো এই সপ্তাহ থেকেই কাঙ্খিত সেই বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করতে শুরু করে। কারণ, গর্ভধারণের ১৮-২৪ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর নড়াচড়া বোঝার উপযুক্ত সময়।

২০তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহে এসে ক্রমবর্ধমান জরায়ুর চাপে অনেক মায়েদের ক্ষেত্রে নাভি বাইরের দিকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তবে এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এটি কোন ক্ষতির কারণ নয় বা সমস্যাটি স্থায়ীও নয়। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থায় হালকা চুলকানি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

হরমোন পরিবর্তনের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে এসময় চুলকানি দেখা দিয়ে থাকে। ত্বকের ইনফেকশন রোধে যথাসম্ভব কম চুলকানোর চেষ্টা করুন। চুলকানি তীব্র হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রীম বা লোশন ব্যাবহার করুন।

যদি আপনার মনে হয়, যে আপনার এক পা অন্য পায়ের চেয়ে বেশী ফুলে আছে তাহলে অতিসত্বর ডাক্তারকে জানান। কারণ, হরমোন পরিবর্তনের ফলে গর্ভাবস্থায় রক্ত জমাট বাঁধা সমস্যা থেকে এমনটি হয়ে থাকে।

গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহে এসে কিছু কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে এসময় মাথা ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ক্লান্তিলাগা, ক্ষুধা, পানিশূন্যতা, এসমস্যাগুলোও ফিরে আসে।

গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হয়ে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে তা রোগা এবং মোটা মহিলাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন অনুভূতির হতে পারে। সাধারণত, রোগা মহিলারা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এটি অনুভব করলেও স্থূল মহিলাদের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে।

গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহে এসে মায়েদের প্রজননতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে, এ সপ্তাহ থেকে শারীরিক মিলনের ইচ্ছা তীব্র হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মায়েদের শরীরে ব্লাড সার্কুলেশন বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চুল ও নখের কোষগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে বেশি পুষ্টি পৌঁছায়।

এর প্রভাবে মায়েদের নখগুলো শক্ত এবং চুল আগের চাইতে ঘন ও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যায়। তবে নখগুলো লম্বা হওয়ার সাথে সাথে শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে। বাচ্চার জন্মের পর এগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে।

গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ২০তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণটি আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ২০তম সপ্তাহে এসে আপনার শিশুটির আকার একটি কলার সমান। যা লম্বায় প্রায় ১০ দশমিক ৮ ইঞ্চির মত। গর্ভধারণের ১৯তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশের মধ্যেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। এসময় ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশও খুব দ্রুত হয়।

অন্যদিকে, এসময় থেকেই মায়ের খাওয়া খাবারের উপাদানগুলো, বাচ্চা রক্তের মাধ্যমে গ্রহন করতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় চলা মায়ের খাদ্যাভ্যাস পরবর্তীতে শিশুর খাদ্যাভ্যাসে বেশ প্রভাব ফেলে।

গর্ভাবস্থার ১৩ তম সপ্তাহ থেকেই ভ্রূণটি মিকোনিয়াম নামক একধরনের সবুজবর্ণের পদার্থ তৈরি করতে শুরু করে। যা এ সপ্তাহে এসে আরও বাড়তে থাকে। জন্মের প্রথম কিছুদিন শিশুটি এই মিকোনিয়ামকে মল হিসেবে ত্যাগ করে।

গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের যৌনাঙ্গের বাহ্যিক অংশ এখনো পুরোপুরি বিকশিত না হলেও ভ্রূণটি মেয়ে হলে তার জরায়ুর গঠন এবং ছেলে হলে তার অণ্ডকোষের থলের গঠন চলমান হয়। পরে, থলের গঠন শেষ হলে বাচ্চার পেটের ভেতর থাকা অণ্ডকোষ নিচে নেমে আসে।

এ সপ্তাহ থেকেই ভ্রূণের কঙ্কাল আরও দৃঢ় হওয়ার সাথে সাথে তার বোন ম্যারো রক্ত কণিকা উৎপন্ন করতে শুরু করে।

এ সপ্তাহে করনীয়

গর্ভাবস্থায় হওয়া শারীরিক সম্পর্ক শিশুর কোন ক্ষতি করে না। যদি বিশেষ কারণে ডক্টরের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় সহবাসে কোনো সমস্যা নেই।

গর্ভধারণের ২০তম সপ্তাহে এসে কিছু কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা, ক্লান্তিলাগা, ক্ষুধা, পানিশূন্যতার মত সমস্যাগুলো ফিরে আসে। তবে এমন পরিস্থিতিতে ডক্টরের পরামর্শ না নিয়ে ওষুধ সেবন করবেননা। পাশাপাশি প্রচুর পরিমানে পানি পানের সাথে সাথে পর্যাপ্ত পরিমান বিশ্রাম নিন। যদি খুব বেশি মাথা ব্যাথা থাকে এবং ব্যাথার ধরন আপনার অপরিচিত মনে হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারকে জানান।

গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, গরু বা খাসির কলিজা, দেশি বাচ্চা মুরগি, কলা ইত্যাদি খাওয়া দরকার। কারণ, বাংলাদেশের বেশির ভাগ গর্ভবতী মায়েরাই আয়রনের অভাবে ভুগে থাকেন। এ সময় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন গ্রহণ করা না হয় তাহলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, আয়রণের অভাবে গর্ভস্থ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
রক্ত স্বল্পতা রোধে গর্ভবতী মাকে ডিম, মাছ, ডালিম, কচুশাক, পালং শাক খেতে হবে।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ২১তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *