গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


মার্জিয়া ইসলাম:

আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে এসে জন্মের সময় শিশুটি দেখতে কেমন হবে, তা অনেকাংশে স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে, এখনও তার চামড়ায় ভাঁজ রয়েছে। যা সময় গড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবে। গর্ভাবস্থার ২২তম সপ্তাহকে দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের নবম সপ্তাহ হিসেবে ধরা হয়। মাসের হিসেবে আপনি এখন ৫ মাসের গর্ভবতী।

২২তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে এসে মায়েদের শরীরে রিলাক্সিন হরমোন বেড়ে যাওয়ার ফলে পায়ের লিগামেন্টগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। এরফলে, পায়ের হাঁড় সামান্য প্রসারিত হয়ে পায়ের পাতা চওড়া হয়ে যেতে পারে। পায়ের এই পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রেই স্থায়ীভাবে রয়ে গেলেও এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

গর্ভাবস্থায় হওয়া বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা, একটা স্বাভাবিক ঘটনা। এই জ্বালাপোড়া কখনও শুধু বুকে আবার কখনও গলায় বা উভয় স্থানে অনুভূত হতে পারে। অনেকের কাছে বুকজ¦ালাপোড়ার সমস্যা অপরিচিত হলেও গর্ভধারণের ফলে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একারণে সমস্যাটিকে অনেকটা অস্বস্তির কারণ বলে মনে হতে পারে।

জরায়ুর অনিয়মিত সংকোচন বা ফলস লেবার পেইন গর্ভাবস্থার শেষের দিকে হওয়ার কথা থাকলেও এসময়ও হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের পুরো সময় জুড়ে এটি এতটাই মৃদু থাকে যে অনেক মা-ই তা অনুভবই করতে পারেনা।

গর্ভাবস্থার ২২তম সপ্তাহে এসে মায়েদের পেটের চামড়া টানটান হওয়ার ফলে নাভী বাইরের দিকে চলে আসে। এবং সন্তান জন্মদানের কয়েক মাসের মধ্যে তা আবার স্বস্থানে ফিরে যায়। সন্তান জন্মের পর অনেক মায়েদের ক্ষেত্রেই নাভী স্থায়ীভাবে কিছুটা প্রশস্ত হতে দেখা যায়।

গর্ভাবস্থায় মায়েদের ত্বকের সমস্যা হিসেবে বুকে বা পিঠে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইতিপূর্বে যারা এ সমস্যায় ভুগেছেন গর্ভাবস্থায় তাদের ক্ষেত্রে এটি আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তবে এতে আতংকিত হবেন না, কারণ প্রসবের পর এগুলো নিজ থেকেই চলে যায়।

গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ২২তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড এতটাই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে, এসময় ডাক্তারী পরীক্ষার মাধ্যমে ভ্রূণের হৃদস্পন্দন শোনা যায়। গর্ভাবস্থার ২২তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণটি একটি পেঁপের সমান। যা লম্বায় প্রায় ১০ দশমিক ৯৪ ইঞ্চির মত।

গর্ভাবস্থার ২২তম সপ্তাহে এসে গর্ভস্থ ভ্রূণটি তার শরীরের অতিরিক্ত তরল বের করতে মূত্রত্যাগ করতে থাকে। যা মায়ের শরীরের বর্জ্যের সাথে বেরিয়ে যায়। গর্ভাবস্থায় মায়ের কিডনির অতিরিক্ত কাজ করার এটি একটি অন্যতম কারণ।

ইতিমধ্যে আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণের চোখের গঠন প্রায় শেষের দিকে এলেও এখনও তার চোখের রং নির্ধারিত হয়নি। কারণ, চোখের স্থায়ী রং নির্ধারিত হতে বাচ্চার জন্মের পর প্রায় ৯ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

অন্যদিকে, ২২ তম সপ্তাহে এসে বাচ্চার চোখের অশ্রু নালীর গঠন শুরু হওয়ার সাথে সাথে চোখের পাতা ও ভ্রুয়ের গঠন সম্পন্ন হয়। তবে, আপনার গর্ভস্থ ভ্রুণ চোখ মেলতে আরো ৬ সপ্তাহ সময় নিবে।

গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ু যথেষ্ট বিকশিত হওয়ার ফলে ভ্রূণটি স্পর্শের অনুভূতি পেতে শুরু করে। স্পর্শের অনুভূতি অনুভূতি পেতে ভ্রূণটি মাঝে মাঝেই তার মুখে ও শরীরে হাত বুলায়। পাশাপাশি ভ্রুণটি এখন থেকেই তার আঙ্গুলগুলো ভালোভাবে মুষ্টিবদ্ধ করতে পারে। অন্যদিকে, এসময় থেকেই ভ্রূণের স্তনবৃন্ত গঠিত হওয়া শুরু হয়।

এ সপ্তাহে করনীয়
হরমোনের পরিবর্তনের ফলে গর্ভাবস্থায় মায়েদের মুখে ব্রণ দেখা দেয়। এসমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিনে অন্তত ৩/৪ বার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। কেমিকেল সমৃদ্ধ কসমেটিকস্ ব্যাবহার না করে শসা, বা অ্যালোভ্যারা মুখে লাগান। আগে টিটি টিকা দেয়া না থাকলে সরাসরি ডক্টরের সাথে কথা বলুন।

আপনি চাকরিজীবী হলে অফিসে কী ধরনের কাজ করেন এবং গর্ভাবস্থার কতদিন পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন সে সম্পর্কে ডক্টরের সাথে কথা বলুন । নিজে সুস্থ থাকতে এবং শিশুর সঠিক বিকাশে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমানে ফলমূল ও শাকসবজি রাখার সাথে সাথে নিকোটিন ক্যাফেইন, ক্যান বা প্যাকেটজাত জূস পরিহার করুন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ২৩তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *