ধুনটে আ.লীগের দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ২৫ জন আহত

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

তারিকুল ইসলাম. ধুনট (বগুড়া)

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলা পরিষদের পর পর তিনটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন। তাঁর অনুপস্থিতির কারনে সরকারের প্রায় আড়াই কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ঝুঁলে আছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা ক্ষুব্ধ। শনিবার এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সমঝোতা বৈঠক ছিলো। গুঞ্জন রয়েছে সমঝোতা না হলে উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন ইউপি চেয়ারম্যানগণ। যার কারনে শনিবার সকাল থেকে ধুনট শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

শনিবার সকাল থেকে আব্দুল খাই খোকনের পক্ষে নেতাকর্মীরা বাজাজ শো-রুম এলাকায় অবস্থান করছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আরেক অংশের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ গেটে অবস্থান করছিল। দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন ওই সমঝোতার বৈঠকে অংশ নেননি। কিন্তু তাঁর চারজন সমর্থক উপজেলা পরিষদের সামনে যায়। এসময় সেখানে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা তাদের মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। খবর পেলে আব্দুল হাই খোকনের পক্ষে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ ভাবে সেখানে হামলা করে। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। পরে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আহতরা হলেন, ধুনট থানার এসআই প্রদীপ কুমার, এসআই মজিবর রহমান, কনস্টেবল মোফাজ্জল হোসেন, কনস্টেবল সবুজ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাজেদুল ইসলাম সাগর, যুবলীগ নেতা বলয় মন্ডল, ছাত্রলীগ নেতা আরিফ, নাসিম, হৃদয়, আকাশ এবং অপরপক্ষে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন সাহা, উপজেলা যুবলীগের বহিস্কৃত সদস্য রাজিবুজ্জামান, পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার ও উপজেলা যুব শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর আলম মিঠু। আহতরা স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন বলেন, উপজেলা পরিষদের সরকারী বরাদ্দ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানগণের সাথে বৈঠক ছিলো। আমি পরিষদে যাওয়ার আগে আমার কয়েকজন নেতাকর্মী পরিষদের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে আমার নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হালমা করে মারধর করে আহত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কর্মকর্তাসহ ৪জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *