বগুড়া ও সিলেটে সড়কে ঝড়ল ১১ জনের প্রাণ, আহত-৫০

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

নবদিন ডেস্ক:

বগুড়ার শাজাহানপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এক ত্রি-মুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালিত অটোটেম্পুর চালকসহ ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৬টার দিকে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট গেটের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজনে নাম পরিচয় জানা গেছে।

নিহত দুইজন হলেন, শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানী হিন্দুপাড়ার কালীদাস (৭২) এবং একই উপজেলার অটোটেম্পু চালক শাহ জামাল (৩৪)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোটেম্পু ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট গেটের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে স্পিডব্রেকারে ব্রেক করলে পিছন দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক টেম্পুর পিছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এসময় টেম্পুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান পাশে ছিটকে পড়ে গেলে ঢাকা দিক থেকে আসা (বিপরিত দিক) শাওন পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৬৩৯৭) চাকার নীচে পিষ্ট হয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। অপর একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে মারা যান।

হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের এসআই জাহাঙ্গীর জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। শাওন পরিবহন নামের বাসটি আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী। এদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা গুরুতর। মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭ টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রশিদপুর নামক স্থানে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকামুখী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) দ্রুতগতির দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এতে বহু যাত্রী হতাহত হয়েছেন।

ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশ ১১ জন নিহতের কথা জানালেও পরবর্তীতে সাতজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিডি মো. কুবাদ আলী সরকার বলেন, ‌‘ঘটনাস্থল থেকে আমরা এসে ১০ জনকে উদ্ধার করেছি। এরমধ্যে সাতজনের মরদেহ রয়েছে। আরো বেশ কয়েকজন হতাহতকে এর আগেই ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *