গর্ভধারণের ২৩তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

Uncategorized দেশজুড়ে


মার্জিয়া ইসলাম:

আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি-গর্ভধারণের ২৩তম সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

গর্ভধারণের ২১তম সপ্তাহ পর্যন্ত আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণের ওজন ধীরে গতিতে বাড়লেও ২৩ তম সপ্তাহে এসে খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। এখন থেকে পরবর্তী ৪ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রুণের ওজন বর্তমান ওজনের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থার ২৩তম সপ্তাহে এসে মাসের হিসেবে আপনি এখন ৬ মাসের গর্ভবতী।

২৩তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থার লক্ষণ

গর্ভাধারণের ২৩তম সপ্তাহে এসে আগের ওজনের উপর নির্ভর করে মায়ের ওজন প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি বেড়ে যেতে পারে। আপনার গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ঠিক আছে কিনা তা দেখতে এসময় থেকেই ডক্টরেরা পেটের আকার পরিমাপ করে থাকেন। ওজন খুব বেশি বা কম মনে হলে সে ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

গর্ভধারণের ২৩তম সপ্তাহে এসে ঘন ঘন টয়লেটের বেগ পেলেও গর্ভবতী মায়ের কম পানি পান করা উচিত নয়। কারণ, গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন টয়লেটের বেগ একটি স্বাভাবিক উপসর্গ। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আর তাই গর্ভস্থ শিশুর এবং মায়ের শরীরের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা আবশ্যক।

গর্ভাবস্থায় ব্লাডারের উপর জরায়ুর চাপ বেড়ে যায় বলে ইউরিন লিকেজ হতে পারে । ফলে, অনবরত পানি ভাঙ্গা বা তরল নির্গত হতে পারে। এমনটি হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অন্যদিকে, এসময় মায়েদের শরীরে রক্ত ও তরল বেশী উৎপন্ন হয় বলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই ।

গর্ভাবস্থায় হাত অবশ লাগা, সুঁই ফোটা বা ঝিন ঝিন অনুভূতি দেখা দিতে পারে। ফলে খাবার খেতে, হাত মুষ্টিবদ্ধ করতে বা কোনো জিনিস ধরতে সমস্যা হতে পারে। এলক্ষণগুলো সাধারণত রাতে বেশি দেখা যায়। তবে, প্রসবের পরপরই এ সমস্যা কমে গেলেও কারো কারো ক্ষেত্রে বছরখানেক ধরে এ সমস্যা চলমান থাকে।

আগেই বলা হয়েছে, গর্ভধারণের দ্বিতীয় মাস থেকে শুরু করে গর্ভধারণের প্রায় সময় জুড়েই মায়েদের নাক বন্ধ হওয়া বা ঠাণ্ডা লাগার মত অনুভূতি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এমনটি হয়ে থাকে। প্রসবের পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সমস্যাটি একেবারে ঠিক হয়ে যায়।

গর্ভধারণের ২৩তম সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ২৩তম সপ্তাহে এসেও আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণের ত্বক এখনো বেশ নাজুক ও পাতলা হওয়ায় ত্বকের নীচের বিভিন্ন অঙ্গ ও হাঁড়গুলো দৃশ্যমান। তারপরও এসময় থেকেই শিশুটি তার শরীরের সবগুলো পেশী নাড়াতে সক্ষম। গর্ভাবস্থার ২৩তম সপ্তাহে এসে আপনার গর্ভস্থ ভ্রূণটি একটি বাতাবি লেবুর সমান। যা লম্বায় প্রায় ১১ দশমিক ৩৮ ইঞ্চির মত।

গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহ থেকেই গর্ভস্থ ভ্রুণটি মায়ের গলার স্বর শুনতে পায়। সেইসাথে, ২৩তম সপ্তাহে এসে ভ্রুণটি গর্ভের বাইরের শব্দও বুঝতে শুরু করে। অন্যদিকে, ভ্রূণটি এখনও কোন খাবার নিজ মুখে গ্রহণ না করলেও ২৩ তম সপ্তাহে ভ্রূণের পরিপাকতন্ত্রের কাজ শুরু হয়ে যায়।

গর্ভধারণের ২৩ সপ্তাহের দিকে এসে ভ্রূণের ফুসফুসের গঠন প্রায় শেষের দিকে। এ সপ্তাহে এসে ভ্রূণের শারীরিক কোনো ত্রুটি দেখতে অ্যানোমালী স্ক্যান করা যায়। এতে করে বাচ্চার শারীরিক কোন ত্রুটি থাকলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া যায়। তবে মনে রাখবেন বাচ্চার শারীরিক কোন ত্রুটি থাকলে অস্থির হবেননা।

এ সপ্তাহে করনীয়

গর্ভাবস্থায় বেশীর ভাগ মায়েরাই কম বেশী পানি ধরা সমস্যায় ভুগে থাকেন। পানি ধরার সাথে সাথে যদি শরীর ফুলে গিয়ে মাথা ব্যাথা এবং চোখে ঝাপসা দেখার মত মনে হয় তাহলে দ্রুত ডক্টরকে জানান। পাশাপাশি এসময় থেকে নিয়মিত ব্লাড প্রেশার চেক করুন এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।

প্রথম চেকআপ থেকে শুরু করে যেসব টেস্ট এবং টিকা নিয়েছেন, তার রিপোর্টগুলো ফাইলে গুছিয়ে রাখুন। সাথে সাথে ডক্টরের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর সংরক্ষণ করুন। প্রসব সম্পর্কে মনের অস্থিরতা এবং দুশ্চিন্তা কাটাতে সন্তান লালন পালন বিষয়ক পড়াশোনা করুন। এতে করে চিন্তামুক্ত থাকার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে ।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ২৪তম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে- আপনাদের সামনে হাজির হবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *