শস্যচিত্রে ফুটে উঠেছে ‘বঙ্গবন্ধু’র অবয়ব; এবার গিনেস বুকে রেকর্ডের পালা (ভিডিও)

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস, আই শাওন:

প্রতিবছরের ন্যায় এবারো আবাদ হবে ধান। শুকনো জমিতে প্রায় এক হাজার দুই শ খুঁটি পুঁতে করা হয়েছে লে-আউট। জমি আবাদে লে আউট? বিস্মিত হতেই পারেন। এ পদ্ধতিতেই আবাদ শুরু হয়েছিল এ বছরের শুরুতে। পরে, এবছরের (২৯ জানুয়ারি) শুক্রবার বেলা ১২টায় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এমনই বিস্ময়ের কাজ শুরু হয়েছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে।

১২০ বিঘা জমির এক বিশাল পোট্রেটে ‘শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধু’ চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল এদিন। জমি প্রস্তুতির কাজ শেষে স্থানীয় ১৪০ নারী শ্রমিক ধানের চারা রোপণ করেছেন। তবে, এবারের ধান আবাদে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের এক শ শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যরাও অংশ নিয়েছে। ধান আবাদে শ্রমিকের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্য ও সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। এ অংশগ্রহণ শুধু শুধু নয়। এ অংশগ্রহণ মূলত ইতিহাসের অংশীদার হওয়ার অভিপ্রায় থেকে।

কারণ হলো এই সোনালী জাতের সাথে গাঢ় বেগুনি রংয়ের ধানের চারা দিয়েই তৈরি হবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র। যেখানে শোভা পাবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে সর্ববৃহৎ শস্য চিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর নাম গিনেস বুকের ‘লার্জেস্ট ক্রপ ফিল্ড মোজাইক (ইমেজ)’ শাখার নতুন রেকর্ডে লেখাতে আবেদন করা হবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর আয়োজন হিসেবে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ‘শস্য চিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’।

(৩রা মার্চ) মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১ দেড় মাস আগে লাগানো ধানগাছগুলো বড় হয়ে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা বীজতলার মাঝথেকে আগাছা উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুভূতি ব্যক্ত করে ব্যস্ত কৃষকেরা বলেন, মজুরির টাকার জন্য নয়, জাতির জনককে শস্যচিত্রে ফুটিয়ে তোলার কাজে অংশ নিতে পেরেই আমরা খুবই খুশি।

বর্তমানে দুর-দুরান্ত থেকে শতশত মানুষ ড্রোন ক্যামেরা নিয়ে ভিড় করছে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে। এই ৪০ একর জমিজুড়ে রোপণ করা ধানের ক্ষেতের ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ছবিতে শস্য চিত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’র অবয়ব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী ইতালি গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন এই প্রকল্পে এক সেশনের জন্য ৫৩ শতাংশ জমি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৫৩ শতাংশ জমি এক ফসলের জন্য বর্গা দিলে ১০ হাজার টাকার বেশি পেতাম না। সেখানে এখন পেয়েছি ১৪ হাজার টাকার বেশি।’

এদিকে চিত্রকর্মটি সার্বক্ষণিক তদারককারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ারের সহকারী ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, চীন থেকে আনা বেগুনি ধান এবং দেশীয় সবুজ জনকরাজ সোনালী এই দুই রংয়ের ধানের চারার সুপরিকল্পিত ও শৈল্পিক চাষের মাধ্যমে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ফুটে উঠায় এখন অনেক দর্শনার্থী প্রতিকৃকিটি দেখতে আসে।

বাস্তবায়নকারী কম্পানির ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান বলেন, গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র ২০১৯ সালে চীনে তৈরি করা হয়, যার আয়তন ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গফুট। বাংলাদেশের শস্যচিত্রের আয়তন হবে প্রায় ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট বা ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার। শস্যচিত্রটির দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার ও প্রস্থ ৩০০ মিটার।

আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র হিসেবে উদ্বোধন করা হবে। অন্যদিকে, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’-এর ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় দলিল গিনেজ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে ১৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে নতুন এই বিশ্বরেকর্ড অর্জন উদযাপন করার সুযোগ দিবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *