লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে তৎপর বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসন

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ ৫ এপ্রিল (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন চলবে ১১ এপ্রিল (রবিবার) পর্যন্ত। এদিকে লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসন শেরপুর থানা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নজরদারি ও কার্যক্রম জোরদার করেছে। ৫এপ্রিল (সোমবার) সকাল থেকেই শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিয়াকত আলী সেখ, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজীউর রহমান, শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন, শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম উপজেলায় লকডাউন কার্যকরী করতে মাঠে নামেন।

উপজেলার ধুনট মোড়,কলেজ রোড,হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সম্মিলিতভাবে অভিযান পরিচালনার সময় হোটেলে বসে খাবার খাওয়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করায় ৭ জনকে ২ হাজার ৮ শত টাকা টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। সরকারি আদেশ অমান্য করে খাবার হোটেলে বসে খাবার খাওয়ানোর অপরাধে একজনকে ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিয়াকত আলী সেখ।

অন্যদিকে, উপজেলার হাসপাতাল রোড, দুবলাগাড়ী, গোসাইবাড়ি বটতলা, বনমরিচা বটতলা,কলেজ রোড,বাসস্ট্যান্ড,বারোদুয়ারী হাট, শেরুয়া বটতলা,শেরশাহ নিউ মার্কেট, উত্তরা প্লাজা, জাহানারা কমপ্লেক্স,ডক্টরস্ কমপ্লেক্স,ধুনট মোড় এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মাস্ক পরিধান ছাড়াই অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি করায় ৬ জনকে ১ হাজার ৮শত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন তিনি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন শেরপুর থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ এবং শেরপুর উপজেলা (ভূমি) অফিসের সদস্যরা।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিয়াকত আলী সেখ বলেন, নিজ নিজ অবস্থানে থেকে আমরা সবাই সচেতন হয়ে অপরকে সচেতন করে তুলতে পারলে মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে নিরাপদে থাকবো। আর করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিতে সবাই ঘরে থাকুন। অযথা বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে বের হলে তাকে গ্রেফতারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজীউর রহমান জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়াসহ জরুরি সেবার আওতায় থাকা পরিবহন ও ব্যক্তিদের ব্যতীত কাউকে বাইরে যেতে বা শেরপুর শহরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আর পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। যা বাস্তবায়নে পুলিশের সদস্যরা সড়ক, মহাসড়কে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার কাজ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, ‘আমরা গতবার দেখেছি, মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে ঘর থেকে বের হয়। এবার এই বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তা বাস্তবায়ন করতে এবং লকডাউন কার্যকরী করতে শেরপুর উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট চলমান রাখবে।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা মাঠে থেকে লকডাউন কার্যকর করব এবং কঠোরভাবে কার্যকর করব। সরকারি প্রজ্ঞাপনে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মুখভাগে থেকে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *