সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন বগুড়ার মেয়ে নিতু

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

পারভীন লুনা,বগুড়া

একবছর আগেও ভাবেননি পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যকিছু করবেন। লক্ষ্য ছিল পড়ালেখা শেষ করেই আয়ের পথে নামবেন। কিন্তু করোনায় তাকে বানিয়ে ছাড়ছে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। বলছিলাম বগুড়া শহরের মাটিঢালি এলাকার মেয়ে নার্সারি ব্যবসায়ী তানজিম তারবিয়াত নিতুর কথা। নিতু বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।

গত বছর করোনার প্রকোপ শুরুর পর কলেজ বন্ধ হওয়ার পর অবসর সময় কিছু একটা করার চিন্তা থেকে নিতু নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন নার্সারি। এরপর শুরু করেন ফুল ও ফলের নার্সারি। নিতু জানান, কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ছিলনা। প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। একপর্যায়ে শুরু করি নার্সারি ব্যবসা। অনলাইনে পেইজ খুলে বিক্রি করতাম। খুব বেশি সাড়া পেতাম না। শুরুর কয়েকদিন পরে ১০ থেকে ১২টি চারা বিক্রি হত। এখন পরিচিত হয়েছি। বিক্রি ভালোই হয়।
নিতুর বাবা জানায়, করোনা প্যান্ডেমিকের মাঝেও গত বছর জুনে থেকে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে চার লাখ টাকার মত বিক্রি হয়েছে। লাভ মোটামুটি ভালো। নিতু আরও জানান, তার বাবা তাকে শোরুম করে দিয়েছেন। অনলাইনের পাশাপাশি যে কেউ এখন শো রুমে এসে অর্ডার করে নিতে পারছেন।এখন অনলাইন-অফলাইন দুই মাধ্যমেই বিক্রি করেন চারা।

বাগানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রথম দিকে শুধুমাত্র ফুলের চারা বিক্রি শুরু করেন। অনলাইনে বিক্রিতে খরচ বেশি হয়। তাই ফুলের চারা বিক্রিতে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রায় ৫ বিঘা জমির অর্ধেক অংশে তিনি চারা উৎপাদন শুরু করেন। আর তার নার্সারি ব্যবসার নাম দেন ট্রি ওয়ার্ল্ড নার্সারি। ফুলের পাশাপাশি, বিভিন্নজাতের ফল, ওষুধি, ক্যাকটাস, অকির্ড, মসলাজাতীয় চারা উৎপাদন শুরু করেন। তিন মাস পর নিজের নার্সারি থেকে চারা ক্রেতাদের মধ্যে বিক্রি শুরু করেন। বিক্রির এক পর্যায়ে তিনি আলাদা একটি দোকান বা কার্যালয়ের অনুভব করেন। এরপর তিনি মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি চারা বিক্রির জন্য রীতিমত শোরুম দিয়ে বসেন। শোরুমের নামও দেন ট্রি ওয়ার্ল্ড নার্সারি।

ট্রি ওয়ার্ল্ড নার্সারির নির্বাহী পরিচালক হয়ে যান দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী তানজিম তারবিয়াত নিতু। গত বছরের ডিসেম্বরে নার্সারি ব্যবসার প্রসার ঘটলে বগুড়া সদর উপজেলার মানিকচক এলাকায় তিনি বাবার সহযেগিতা নিয়ে ১৬ বিঘা জমি ক্রয় করেন। কৃষি জমি কিনে তিনি সেখানে বিভিন্নজাতের ফল-ফুলের চারা করেছেন।

নিতু জানান, শুরুতে এতটা চিন্তা না থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদার কারণে বগুড়া, ঢাকার সাভার, যশোরের ফুলগ্রাম থেকে কিছু কিছু ফুলের জাত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে চারা করা হয়েছে। করোনাকালে ঘরে বসে না থেকে পরিবারের সহযোগিতায় নার্সারি ব্যবসাটা শুরু করেন। নিজের গড়া নার্সারিতে এখন রয়েছে অর্ধশতাধিক জাতের ফুলের চারা। এর মধ্যে ২০ প্রকার গোলাপের চারা, ৩০ প্রকার ফলের চারা। রয়েছে বেশ কিছু মসলা, অর্কিড, ক্যকটাস ও ওষুধি চারা।

মান ও চারার বয়স অনুযায়ি তিনি সর্বনিম্ন ৫০ টাকায় বিক্রি করেন। নার্সারিতে হাজার টাকা মূল্যের চারাও রয়েছে। নিতু তার প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখানোর পর বলেন, সব মিলিয়ে এখন প্রায় ৫৫ হাজার চারা রয়েছে। যা প্রতিটি চারা গড়ে ৫০ টাকা করে ধরা হলে আর্থিক হিসাবে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা। নার্সারি গড়ে সফল শিক্ষার্থী নিতু এখন স্বপ্ন দেখছেন সবুজ বাংলাদেশ গড়ার। এজন্য শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
নিতু বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, দৃঢ় মনোবল আর লক্ষ্য স্থির রাখলে সাফল্য আসবেই। চাকরির পিছনে না ঘুরে শিক্ষিত বেকারদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরামর্শ নিতুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *