আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফিতে গোল্ড মেডেল পেলেন সাইফুল আমিন কাজল

প্রধান খবর

তারিকুল ইসলাম:

বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি আয়োজিত এবিপি এর আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ওপেন কালার ক্যাটাগরিতে গোল্ড মেডেল ও ফটোগ্রাফার অফ দা ইয়ার ট্রফি পেলেন ফটোগ্রাফার সাইফুল আমিন কাজল।

এবিপি চেয়ারম্যান ও বিপিএস জেনারেল সেক্রেটারি ইউসুফ তুশার ও স্বনামধন্য ফটোগ্রাফার জাকিরুল মাজেদ কনকের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহন করেন সাইফুল আমিন কাজল।

বিপিএস এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এবিপি এর এটা প্রথম ইন্টারন্যাশনাল সেলন ফটোগ্রাফি কন্টেস্ট।
২০২০ এর মাঝামাঝি সময়ে ছবি নেয়া হয়, নভেম্বরে রেজাল্ট দেয়। জুরি প্যানেলে ছিলেন হাসান চন্দন, ডা রশিদ উন নবী শুভ্র, শোয়েব ফারুকি, ইমতিয়াজ আলম বেগ, আখলাস উদ্দিন। এটির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জাতীয় চিত্রশালাতে হবার কথা ছিল ডিসেম্বরে (২০২০) যেখানে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন কিন্তু করোনার কারনে সেটা বাতিল করা হয়। বিপিএস এর অফিসে শুধু বিজয়ীর উপস্থিতিতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বিজয়ী ছবিটা ঢাকা মেডিকেলের সামনে করোনা রোগি বয়স্কা মা কে নিয়ে তার ছেলে আর ডিএমসির নার্স ডিএমসিতে সিট না পেয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যাচ্ছিল তারা‌। ঠিক সে সময়ে রাস্তার অপর পাশ থেকে করোনায় মারা যাওয়া লাশ নিয়ে একটি ট্রাক আসছিল।

সাইফুল আমিন কাজলের দেশের বাড়ি নোয়াখালিতে। বাবার চাকুরিসুত্রে জন্ম হবিগঞ্জে। ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার জিগাতলায় থাকেন। পেশায় একজন বেসরকারি চাকুরিজীবি। পাশাপাশি তিনি করেন এমেচার ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি।

সাইফুল আমিন কাজল বলেন, ছবি তুলি ৮০ দশক থেকে, কিন্তু সিরিয়াসলি করছি ২০১৫ থেকে। তার আগে ফ্যামিলি বা বন্ধুদের ছবি তোলা ছাড়াও ৯০ দশকে জাপান আর আমেরিকায় থাকা ভাইদের পাঠানো ক্যামেরা দিয়ে প্রচুর ছবি তুলতাম৷ ২০০০ এ চাকুরিজীবন শুরু করেও ছবি তোলা আরো বেড়ে ছিল। তখন থেকেই সব সময় সাথে ক্যামেরা থাকতো আমার৷

২০০৯ এ পিলখানা বিদ্রোহের সময় ছবি তুলতে গিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হই। ২০১৪ পর্যন্ত বিছানায় পড়ে থাকি।সেই সময় আমি আগেকার সমস্ত ছবি হারাই হার্ডডিস্ক ক্রাশ করে। ৭ টা মেজর অপারেশন হয় পায়ে৷ ২০১৫ তে আবার অফিস করা এবং ভাইয়ের ক্যামেরা ধার করে ছবি তোলা শুরু করি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহন নেয়া হয়নি কোথাও। তবে জিএমবি আকাশের কাছে ২০১৬ তে ২ দিনের একটি কোর্স করি। এছাড়া আরো বেশ কিছু একদিনের শর্ট কোর্স করি। তিনি আরো বলেন, পুরস্কার এই সম্মান আমাকে আরো ব্যাপক উৎসাহ দিবে। আমার পুরস্কারটি প্রয়াত লিজেন্ড আনোয়ার হোসেন কে উৎসর্গ করলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *