নন্দীগ্রামে ফেসবুক প্রতারক চক্রের তিনজন ৩ দিনের রিমান্ডে

বগুড়ার সংবাদ

নবদিন ডেস্ক:

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতারণার মূলহোতা রিনা ও তার সহযোগীদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই তিন আসামিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাইলে বিচারক তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন- উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ভদ্রদীঘি গ্রামের প্রবাসী সুজন প্রামাণিকের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৭), তার সহযোগী কহুলী গ্রামের মিলন হোসেনের ছেলে লিটন হোসেন (২২) ও একই গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে গোলাম রাব্বি (২০)। এর আগে বৃহস্পতিবার ১৭ জুন সকালে মামলার পরপরই তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি করেন ভুক্তভোগী আব্দুল মোত্তালিব। আব্দুল মোত্তালিব নাটোর জেলার বাসিন্দা।

মামলায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী চাকরির সুবাদে সিলেটে বসবাস করেন। তার স্ত্রীসহ পুরো পরিবার নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় বসবাস করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার রিনা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার মোত্তালিব গ্রামের বাড়ি নাটোরের উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে রওনা দেন। বিষয়টি জানতেন রিনা বেগম। ফলে তার সঙ্গে দেখা করতে মোত্তালিবকে অনুরোধ করেন রিনা। একপর্যায়ে মোত্তালিবও রিনার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়ে যান। মঙ্গলবার রাতে সিলেট থেকে রওনা দেন মোত্তালিব। বুধবার সকালে তিনি বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলায় রিনার বাড়ির সামনে পৌঁছান। সেখানে তার রিনার সঙ্গে দেখা হয়। রিনা তাকে বাড়িতে আসতে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু মোত্তালিব রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে রিনা বলেন তার স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। রিনার স্বামী বাড়িতে নেই শুনে মোত্তালিব বাড়িতে আর প্রবেশ করতেই চাননি। ওই সময় রিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা অপ্যায়ন করার কথা বলে তাকে জোর করেই বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মোত্তালিবকে বাড়িতে নিয়েই রিনাসহ অন্যদের ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে যায়। মোত্তালিবকে তারা বলেন, যত সহজে আসছিস, তত সহজে যেতে পারবি না। ওই সময় মোত্তালিব বাড়ি যেতে চাইলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মোত্তালিব টাকা দিতে রাজি হননি। এতে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ সময় মোত্তালিবের পকেটে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। পরে মোত্তালিবকে উলঙ্গ করে সেই ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। তাদের মারধরের শিকার হয়ে মোত্তালিব তার এক সহকর্মীকে বলে তাদেরকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২০০ টাকা দেন। পরে অভিযুক্তরা আরও ৮৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তারা মোত্তালিবের মোবাইলে থাকা একটি মেমরী কার্ড, মানিব্যাগে থাকা একটি সাউথ-ইষ্ট ব্যাংক ও একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেন। সবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় দুইটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মোত্তালিবকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার আব্দুল মোত্তালেব বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুলু মিয়াসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত রিনা বেগম ও তার সহযোগীরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ওই চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *