শেরপুরে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস স্থানান্তরের সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:

বগুড়ার শেরপুরে সড়কের পাশে বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তরের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শেরপুর-কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কের গাড়িদহ ইউনিয়নের রনবীরবালা ঘাটপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে চারপাশে সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এসময় স্থানীয় দোকানমালিকসহ পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী মুদিদোকানি ফজলুল হক বলেন, আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে বড় আকারের একটি সিলিন্ডারভর্তি গ্যাস নিয়ে একটি একটি কাভার্ড ভ্যানে আসে। এরপর বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর শুরু করেন কর্মচারীরা। এ সময় পাইপলাইন লিকেজ হয়ে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের সাদা ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় মানুষ আতঙ্কে চারপাশে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িত লোকজন সবাই সটকে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, আবদুল হামিদ নামের এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান এটি। তাঁর বাড়ি কোথায় স্থানীয় মানুষ কেউ জানেন না। স্থানীয় ফিরোজ আলীর গাড়ির গ্যারেজের জায়গা ভাড়া নিয়ে দুই মাস ধরে বিভিন্ন সিএনজিচালিত গাড়িতে প্রতিদিন ভোররাত থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রি করে আসছেন আবদুল হামিদের কর্মচারীরা। প্রায় এক বছর আগে গ্যাস বিক্রির এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছিল শেরপুর উপজেলা প্রশাসন। সে সময় বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গ্যাস বিক্রির প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় দুই মাস আগে গোপনে আবারও বিভিন্ন সিএনজিচালিত গাড়িতে গ্যাস বিক্রি শুরু করে।

এ প্রসঙ্গে জায়গাটি ভাড়া দেওয়া ফিরোজ আলীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রায়হান-রাকিব ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মো. রায়হান বলেন, রায়হান-রাকিব ট্রেডার্সের জায়গা ভাড়া নিয়ে আব্দুল হামিদ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সিএনজিচালিত বিভিন্ন গাড়িতে গ্যাস বিক্রি করেন তিনি। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা তিনি জানেন না।

গাড়িদহ ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, রাতারাতি গড়ে ওঠা গ্যাস বিক্রির এই প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধতা নেই।

সম্প্রতি যোগদান করা ইউএনও মোঃ ময়নুল ইসলাম বলেন, রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় বিভিন্ন গাড়িতে সিলিন্ডারে করে যেভাবে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে, তার কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *