বগুড়ার শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেল আরও ১৭টি ভূমিহীন পরিবার

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে সারাদেশের ৫৩ হাজার ৩৪০ পরিবারকে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২০ জুন) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের দেশের ৪৫৯টি উপজেলা প্রান্ত থেকে ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব মানুষদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেন তিনি।

সারাদেশের দেশের ৪৫৯টি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলাও। ২০ জুন (রবিবার) সকাল ১১টায় শেরপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ময়নুল ইসলামের হাত থেকে জমির দলিল ও ঘরের চাবি বুঝে নেন এই উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের ৫ জন, কুসুম্বী ইউনিয়নের ৪ জন, সুঘাট ইউনিয়নের ৪ জন, গাড়ীদহ ইউনিয়নের ৩ জন এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ জনসহ মোট ১৭ টি গৃহহীন পরিবার।

শেখ হাসিনার উপহার আধাপাকা ঘরের দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেনবগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহ জামাল সিরাজী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার পুঁটি, শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আমির হামজা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুবির কুমার পাল, শেরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব মুন্সী সাইফুল বারী ডাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ,সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা লিটন, গাড়ীদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন, খামারকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব, খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মুন্টু, বিশালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ‘একসঙ্গে এত মানুষকে জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর দেয়া পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল।’ আশ্রয়ণে ছিন্নমূল বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী স্থায়ী আবাসনের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানেরও সুযোগ পাচ্ছে। এতে দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’-প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এ বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বাড়ি ও ব্যারাকে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ গৃহ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের আশ্রয়ণের মধ্য দিয়ে গত ছয় মাসে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ২৪৪টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ সেমিপাকা ঘর প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে দেশের সব মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসনের বন্দোবস্ত করবে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *