শেরপুরের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নিজেই অসুস্থ ॥ সংস্কারের উদ্যোগ নেই

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

মৌসুমী ইসলাম:

বগুড়ার শেরপুরের খানপুর কয়েরখালি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কার্যালয়ের ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে নির্মাণ সামগ্রী। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। একতলা ছাদ বিশিষ্ট এ ভবনেই ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলছে চিকিৎসা সেবা। আর কর্মকতারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের সেই কাঙ্খিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আবাসিক ভবনে গরু ছাগল রাখার মত কোন পরিবেশ নেই। আবাসিক ভবন এখন টয়লেটের জায়গায় পরিনত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনের এমন বেহাল দশা। ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্র বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জরুরী ভিত্তিতে নতুন করে নির্মাণ করা দরকার বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ছাদের নির্মাণ সামগ্রী ধসে পরেছে কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। বসার মত তেমন কোন জায়গা নেই।

আরো জানা যায়, জনগনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ১৯৭৮ সালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে জনবল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ১ জন পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা, ১ নজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ১ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিচালক, ৬ জন অফিস সহায়ক। এতে করে ইউনিয়নের দরিদ্র, অতি দরিদ্রসহ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সাধারণ চিকিৎসা, গর্ভবতী ও শিশু সেবা পেয়ে আসছে। শেরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি উপস্বাস্থ্য ও ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে খানপুর ইউনিয়নের কয়েরখালি বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও কোনোদিন সংস্কার কাজ হয়নি।
এলাকাবাসী কালাম জানান, টয়লেট ও আবাসিক ভবন একদম ভেঙ্গে পড়ে এখন সেগুলো বন্ধ হয়ে আছে। টয়লেট বন্ধ থাকায় ঐ ভবনের মাঝে টয়লেট করছে। আবাসিক ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে ঐটা এখন জনসাধারণের টয়লেটের জায়গা। রুগিরা চিকিৎসা নিবে কি করে।

খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, প্রতিদিন ইউনিয়নের শত শত নারী-পুরুষ, শিশু ও কলেজ-স্কুলগামী মেয়েরা এসে এই কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়। দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার না করা হলে ইউনিয়নে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হবে। ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

খানপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রনজিৎ কুমার তালুকদার বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঙ্খিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ভবন ও আবাসন ভবন পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। আমরা বাহিরে গিয়ে টয়লেট করে আসি। সচল করে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ভবন সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *