শয্যা বাড়িয়েও হিমশিম খাচ্ছে বগুড়ার কোভিড হাসপাতালগুলো

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

পারভীন লুনা, বগুড়া

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বগুড়াতেও। বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন বগুড়ার, ২ জন নাটোরের এবং ১ জন নওগাঁ জেলার। একই সময় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২৭ জন।

বুধবার (৩০ জুন) বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় ৩৩৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করে ১২৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৩৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন। বগুড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৩৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৬১২ জন। মারা গেছেন ৩৯৪ জন।এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৩৩ জন।

এদিকে, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে নতুন করে রোগী ভর্তির পরিস্থিতি নেই। ভর্তি থাকা রোগীদের কেউ সুস্থ হয়ে ছাড়া পেলেই কেবল অন্য কাউকে শয্যা দেওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বগুড়ার কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। চাপ সামলাতে অন্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি আপাতত বন্ধ রাখছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এদিকে, বগুড়ায় করোনা ডেডিকেটেড মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটেও কোনো শয্যা খালি নেই।

বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, আগের দিন কয়েকটি বেড খালি হয়েছিল। নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় করোনা ইউনিটের সব শয্যা আবার পূর্ণ হয়ে গেছে।

বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, রোগীর চাপের কারণে আরও ২০টি শয্যা বাড়িয়ে ১৮০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্ত রোগী বাড়ছে। প্রতিদিন ২৫/৩০ জনেরও বেশি নতুন রোগী আসছে। হাসপাতালের অন্য রোগী ভর্তি এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে হয়তো আরও কয়েকটি শয্যা বাড়ানো যাবে।এদিকে, বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে করেনা ইউনিটে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭৭ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *