বগুড়ার শেরপুরে তিনদিনের টানা বৃষ্টিপাতে পানিবন্দি হাজারো পরিবার

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেশকয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের চলাচলের রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। পানি উঠেছে তাদের বসবাসের বাড়িঘরেও। কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিগত কয়েকদিনে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ফুলতলা, নওদাপাড়া, আন্দিকুমরা, রহমতপুর, খন্দকারটোলা, মুন্সিপাড়া, হাসপাতালরোডস্থ পল্লীবাস, ইসলামপুর এলাকায় অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে পানি জমে আছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকেছে। বন্ধ আছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

ফুলতলা গ্রামের বাদশা মন্ডল, মোজাম্মেল হক, মামুনুর রশিদসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আন্দিকুমরা গ্রামে পানি নিষ্কাশনের জন্য সাঁকো রয়েছে। কিন্তু ওই সাঁকোটির মুখ বন্ধ করে বেশকয়েকজন ব্যক্তি বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। তাই পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকাটিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) সাইদার রহমান সাকিব বলেন, ওই এলাকাটিতে জলাবদ্ধতা স্থায়ী আকার ধারণ করায় অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেই সঙ্গে জমে থাকা পানিতে আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে।

একই অবস্থায় শেরুয়া গড়েরবাড়ি, খন্দকারটোলা, হাসপাতাল রোডস্থ পল্লীবাস ও ইসলামপুর এলাকার। মানুষের চলাচলের সড়ক ও বাসা-বাড়িতে পানি ওঠায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আল ইমরান, লিমন হাসানসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। এতে করে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমিন মন্ডল বলেন, জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, আমি এই কর্মস্থলে নতুন। তাই অনেক বিষয়ই এখনও অজানা রয়েছে। জলাবদ্ধতার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *