জরিমানা করতে নয়, আপনাদের সুরক্ষায় আমরা বাইরে আছি-এসিল্যান্ড সাবরিনা শারমিন

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস, আই শাওন:

ভারতীয় ডেলটা ধরন ছড়িয়ে সারাদেশেই করোনা আক্রান্তের সঙ্গে ভয়াবহভাবে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২১ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত (০১ জুলাই) বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। পরিধি বাড়িয়ে যা চলবে ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।

করোনার বিস্তার রোধে সারাদেশের মতো বগুড়ার শেরপুর উপজেলাতেও সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রতিনিয়ত মাঠে সজাগ দৃষ্টি রেখেছে শেরপুর উপজেলা প্রশাসন। প্রতিদিন সকাল থেকেই এ উপজেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা চলমান রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া হাটবাজার, দোকানপাট ও সড়কে উৎসুক মানুষের অহেতুক ঘোরাঘুরি বন্ধে টহল বাড়িয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে জরুরী পরিসেবার আওতায় থাকা (খাদ্য দ্রব্য, ওষুধ) ইত্যাদির দাম এবং মান ঠিক আছে কিনা সেদিকেও নজর রাখছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন।

কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ৬ জুলাই উপজেলার ঢাকা বগুড়া মহাসড়কে বের হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। এসময় তিনি গাড়ি থামিয়ে মুখে মাস্ক না থাকা এক মুরুব্বীকে জিজ্ঞেস করেন আপনার মাস্ক কোথায়? এসময় পুলিশের গাড়ি দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন বলেন, ভয় পাবেন না। আমি আপনাদের জরিমানা করতে আসিনি। আমি এসেছি আপনারা যাতে সকলে কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলেন ও নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করেন এজন্য। এ সময় তিনি তাদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।

গত (৩ জুলাই) এ উপজেলায় হঠাৎ করে খবর চাউর হয় বাজারে নাপা-জাতীয় ওষুধের (নাপা এক্সটা, নাপা এক্সটেন্ড ও নাপা সিরাপ) ওষুধের দাম বেড়েছে। এই সুযোগে ফার্মেসি মালিকেরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এক পাতা নাপা বিক্রি করছেন ৩০ টাকা। অথচ, এক পাতা নাপা ট্যাবলেটের দাম ৮ থেকে ১০ টাকা। অভিযোগ পাওয়া মাত্র অভিযানে বের হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কনক ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ফার্মেসির মালিককে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন তিনি।

গত (৭ জুলাই) মঙ্গলবার উপজেলার বাঙালি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পায় উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত ৮ পর্যন্ত উপজেলার গজারিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন পাম্প ও (২৫০০ মিটার) পাইপ জব্দ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত আসার খবরে পালিয়ে যান বালু উত্তোলনকারীরা।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুরে ইটের গুঁড়া ও ধানের কুড়ায় রং মিশিয়ে ভেজাল হলুদ ও মরিচের গুঁড়া তৈরির মহোৎসবে মেতেছেন মুনাফাখোর একটি অসাধু চক্র। এমন খবরের ভিত্তিতে (৮ জুলাই) বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বারোদুয়ারী হাটখোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে দুইটি কারখানার মালিকদের নিকট থেকে পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। সেইসঙ্গে ৫৭ কেজি ভেজাল হলুদ ও মরিচের গুঁড়া জব্দ করে নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরের বারোদুয়ারি হাটখোলা এলাকায় গড়ে তোলা এনামুল হক ও আবুল কালাম আজাদের কারখানায় ভেজাল হলুদ ও মরিচের গুঁড়া তৈরি হচ্ছিল। আসল হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে ক্ষতিকর রং ও আতপচালের গুঁড়া এবং মরিচের সঙ্গে কখনো ইটের গুঁড়া আবার কখনো ধানের গুঁড়া ও রঙ দিয়ে কালার করে ভারতের গোলমরিচ দিয়ে ঝাঁঝ করে এসব ভেজাল পণ্য বিক্রি করে আসছিল চক্রটি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের পদক্ষেপের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, করোনা মোকাবেলায় সবাই ব্যস্ত। আমরা নিজেরাও চাই এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে জরিমানার আওতায় না আনতে। তবে, মানুষের এতটা ভীতিহীন ভাব যে তাদের মৃত্যুর কাছে নিয়ে যাচ্ছে এটাও তাদের উপলব্ধি করা দরকার। আর এ উপজেলার মানুষদের সুরক্ষিত রাখতেই আমরা মাঠে। শুধু করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানানোই নয়; মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ী, ভেজাল পণ্য বাজারজাতকারী, যেকোন ধরণের অন্যায়কারী চক্রকে ধরতেও সক্রিয় উপজেলা প্রশাসন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সকল দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। মানুষের জান মালের ক্ষতিসাধন হয় এমন যেকোন কর্মকান্ড পরিচালনাকারী চক্র যত বড়ই হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *