ধুনটে টয়লেটের কূপে শিশুর লাশ; শিশু সন্তান হত্যা মামলায় মা কারাগারে

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

তারিকুল ইসলাম. ধুনট (বগুড়া)

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অপচিকৎসা প্রদানকালে মায়ের হাতেই মারা যায় ১মাস ৮দিন বয়সের আঁখি খাতুন। ভয়ে শিশু সন্তানের মৃতদেহ মায়ের বাড়ির টয়লেটের কূপে ফেলে গুম করার চেষ্টা করে মা আদুরী খাতুন (২৩)। এমন স্বীকারোক্তিমুলক জবাববন্দী পেয়ে সন্তান হত্যার মামলায় আদুরী খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কবিরাজের সেখানো পদ্ধতিতে ১মাস বয়সী শিশুকন্যাকে ফিটকিরি মেশানো পানি খাওয়ায় আদুরী খাতুন। একই পদ্ধতিতে সে নিজেও পানি পান করে। ওই পানি পান করে শিশু সন্তান মারা যায়, অসুস্থ্য বোধ করেন মা আদুরী খাতুন নিজেও। কবিরাজী অপচিকিৎসা প্রদান করে নিজের হাতে শিশু সন্তান মারা যাওয়ার ঘটনায় ভয় পায় আদুরী। নিজেকে রক্ষা করতে মায়ের বাড়ির কাঁচা টয়লেটের কূপে ফেলে দেয় মৃত সন্তানের লাশ। তারপর শিশু সন্তান নিখোঁজ হওয়ার নাটক করে। এরমধ্যে ফিটকিরির পানি পানের প্রভাবে অসুস্থ্য বোধ করে নিজেও। চিকিৎসার জন্য ভর্তি হোন স্থানীয় হাসপাতালে।

শনিবার বিকেলে আদুরী খাতুনকে বগুড়ার আদালতে হাজির করলে ম্যাজিষ্ট্রেট তার জবানবন্দী রেকর্ড করে। এরপর আদালত আদুরী খাতুনকে বগুড়ার কারাগারে পাঠায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চান্দারপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা চম্পা খাতুনের মেয়েকে বিবাহ করে পার্শ্ববর্তি পারধুনট গ্রামের হোসেন প্রামানিকের ছেলে ওয়াসিম প্রামানিক। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৬বছর বয়সি আতিক প্রামানিক নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ জুন মাসে আদুরী খাতুন একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। যার নাম রাখা হয় আঁখি। গত ১৬ জুলাই স্বামীর বাড়ি থেকে সন্তানদের নিয়ে আদুরী খাতুন চান্দারপাড়া গ্রামে মায়ের বাড়িতে আসে। ১৭ জুলাই বিকেল ৫টায় ওই বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে শিশু আঁখি খাতুন নিখোঁজ হয়। ১৮ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার ২১ঘন্টা পর ওই বাড়ির টয়লেটের কূপ থেকে পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ওয়াসিম প্রামানিক বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তকালে পুলিশ শিশুটির মা আদুরী খাতুনের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পান। যার ভিত্তিতে আদুরী খাতুনকে গত বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় আদুরী খাতুন ঘটনার সাথে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে শিশুটির মা আদুরী খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে পুলিশের নিকট স্বাকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। একারনে শিশুটির বাবার দায়েরকৃত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার বগুড়ার আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট তার জবানবন্দী গ্রহন করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *