বগুড়ায় ৬ বছর আগে ‌‘খুন হওয়া’ শামীম জীবিত হয়ে ফিরলেন এলাকায় !

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

নবদিন ডেস্ক:

বগুড়ায় ৬ বছর আগে খুন হওয়া শামীম (২৮) নামে এক যুবককে আবারও এলাকায় দেখা গেছে। এদিকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ এনে শামীম হোসেনের মা ঝরনা বেগম সে সময় আজিজার রহমান (৩৫) নামে একজনের নামে মামলাও করেছিলেন।

ওই মামলায় আজিজার রহমান সাড়ে ৪ মাস জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এখনও প্রতি মাসে মামলার হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। আবার ওই মামলায় সিএনজিচালক রাকিব হোসেনকেও সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলেও জানা গেছে।

খুন হওয়া শামীম হোসেন বগুড়া সদরের শাখারিয়া পশ্চিম পাড়ার শাহিনের ছেলে। শামীমকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে মর্মে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করেছিলেন তার মা ঝরনা বেগম। পরে সে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই বছরের ১১ আগস্ট চার্জশিট আদালতে জমা দেন।

অপরদিকে শামীম হত্যা মামলায় সাড়ে ৪ মাস জেলে থাকা সদরের মানিকচক এলাকার মৃত ধলু প্রামাণিকের ছেলে আজিজার রহমান (৩৫)। আজিজার বর্তমানে বগুড়া শহরের বড়গোলায় একটি দোকানে কাজ করেন।

জানা যায়, দীর্ঘ বছর পর সোমবার (৯ আগস্ট) সকালে হঠাৎ শামীমের দেখা মিলেছে বগুড়ার সদর উপজেলার মানিকচক এলাকায়। সে সাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। তাকে জীবিত দেখা গেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শতশত গ্রামবাসী তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেছিলেন।

এ সময় আজিজারের পরিবারের লোকজন তাকে ধরে ফেলে। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে শামীম বগুড়া সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

আজিজার রহমান জানান, ২০১৫ শামীম ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল ভারতীয় মালের ব্যবসা করা জন্য। ধারের সেই টাকার জন্য শামীমকে চাপ দেই। ওই সময়ই শামীম গ্রাম থেকে উধাও হয়ে যায়। পরে আমার বিরুদ্ধে অপহরণ করে হত্যা মামলা করেন শামীমের মা ঝরনা বেগম। সেই মামলায় পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সাড়ে ৪ মাস জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বর্তমানে বাড়িত রয়েছেন। এখনও সে মামলা নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়। আজ সকালে মানিকচক এলাকায় শামীমকে বাইসাইকেল চালিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে আমার ছোটভাই তাকে ধরে। পরবর্তীতে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে তাকে (শামীম) থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে শামীম হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে সিএনজিচালক রাকিব হোসেনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল শহরের নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যে শামীম হত্যার অভিযোগে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল সে শামীমকে তিনি চিনতেনই না। আজ খবর পেয়ে তাকে দেখতে ছুটে এসে এসব কথা তিনি বলেন। রাকিব সদরের মানিকচক তিলেরপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।

বগুড়া সদর থানায় শামীম জানান, ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আজিজার তাকে খুন করার উদ্দেশ্য সদরের কর্ণপুর ফোরকানিয়া মাদরাসা থেকে ডাঙা বিলের পাড়ে নিয়ে যায় মারপিট করে। পরের দিন তিনি জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যায় ভারতে। সে সময় বিএসএফ তাকে আটক করে বালুয়াহাট থানায় পাঠায়। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করায় তার ৩০ মাসের জেল হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে সে বালুয়াহাট কারাগারে ও পরে বহরমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২৬ মাস জেলা খাটার পর সে মুক্তি পায়। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে নৌকায় করে বিএসএফ আবার বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। এরপর সে দেশে ফিরে আসে। সোমবার সকালে সরকারি চাল নিতে মানিকচক এলাকায় গেলে তার সাইকেল আজিজারের লোকজন কেড়ে নিয়েছে। এরপর তারা তাকে মারতে আসলে কাউন্সিলর তাকে উদ্ধার করে। এরপর থানায় এসে সে জিডি করে।

শামীমের মা ঝরনা বেগম বলেন, ২০১৫ সালে আজিজার তাকে মোবাইল ফোনে জানায় তার ছেলেকে হত্যা করে ডাঙার বিলের পুঁতে রাখার কথা। তারপর তিনি পুলিশের শরণাপন্ন হন এবং ছেলে অপহরণ করে খুন করায় আজিজারকে আসামি করে মামলা করেন। সে মামলায় আজিজার জেল খাটে। ২০১৮ সালে শামীম ভারত থেকে জেল খেটে বাড়ি ফিরে। এরপর থেকে সে এলাকায় বিভিন্ন কাজ করে আসছিল।

বগুড়া সদর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, শামীম বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে একটি মামলায় আদালতে হাজিরও হয়েছিল বলে আমাদের বলা হচ্ছে। আর হত্যা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশের এক সদস্য বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে ৬ বছর আগের খুনের ঘটনায় জীবিত শামীমের বিষয়টি বের হয়ে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *