শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেখ রাসেল দিবস পালিত

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন:

‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে দেশব্যাপী ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’ উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা বিভিন্নস্থানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখ রাসেল দিবস পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শেখ রাসেল ছোট বয়সেই মানবিক, নেতৃত্বসুলভ আচরণ, পরোপকারী গুনাবলির অধিকারী ছিলেন। বেঁচে থাকলে আজকের ৫৭ বছরের মানুুষটিও হতেন এক অনন্য গুণাবলির ব্যক্তিত্ব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর কনিষ্ঠ পুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অতি আদরের ছোট ভাই শহীদ শেখ রাসেল এর ৫৮তম জন্মদিন আজ। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা শেখ রাসেলকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় তাদের সেই অপচেষ্টা শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিবোধ সম্পন্ন মানুষদের কাছে ভালবাসার নাম। শেখ রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আছে তার স্মৃতি। বাংলাদেশের সব শিশুকে রাসেলের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ময়নুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মো: রায়হানের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব মুন্সি সাইফুল বারী ডাবলু, শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম, শেরপুর ফায়ার সার্বিস ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মো: নাদির হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত স্থান ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট মানবতার ঘৃণ্য শত্রু-খুনি ঘাতক চক্রের নির্মম বুলেটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নরপিশাচরা নিষ্ঠুরভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। ছোট্ট রাসেল সেদিন ঘাতকদের মিনতি করে বলেছিলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাব’। কিন্তু ছোট্ট শিশুর এ মিনতি ঘাতকদের মন একটুও গলাতে পারেনি। নিমিষেই তারা বুলেটের আঘাতে শিশু রাসেলের প্রাণ কেড়ে নেয়। মৃত্যুকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে (বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। শেখ রাসেলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৮ অক্টোবর ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত ঘোষণা করে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *