বগুড়ার শেরপুরে বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা দিবস পালিত

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস, আই শাওন, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ ২০২১। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার শেরপুরে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা দিবস ও সপ্তাহ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্ত্ব¡রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ রায়হান পি এ এ’র সভাপতিত্বে, প্রাণিসম্পদ লাইভস্টক অফিসার সানজিদা হকের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর পরিচালক ডাক্তার উত্তম কুমার দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ময়নুল ইসলাম, শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম, শেরপুর ডেইরী ফার্ম কর্মকর্তা ছালেহ আল রেজাসহ আরো অনেকে।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সারা বিশ্বে অ্যান্টিমাইক্রোবাইয়াল রেসিসট্যান্স একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। জীবাণুসমূহ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেই চলছে। জীবাণুগুলো অনেক রকম অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে। ফলে কম বা বেশি দামি সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমণ চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এতে করে এ ধরনের রোগজীবাণু প্রাণী বা ব্যক্তির জন্য প্রাণঘাতী হওয়া ছাড়াও সমাজে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে। তাই এ সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই। সুস্থ-সবল প্রাণীর কোন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এর প্রয়োজন হয় না তাই চিকিৎসা ব্যয় কমে যাওয়ায় খামারি আরো বেশি লাভবান হয়।

অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার খামারের প্রাণি বা মানুষ সকলের জন্যই ক্ষতিকর। আর তাই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ প্রয়োগে বিপজ্জনক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ধরনের চিকিৎসা চলতে থাকলে অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যথার্থ না হলে এমন একটা সময় আসবে যখন ব্যাকটেরিয়াকে মারা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (অকার্যকারিতা) সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য চিকিৎসকসহ সব পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের আরো সচেতনতা দরকার এবং এন্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে জনসাধারণকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি বছরের ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ পালন করে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- স্প্রেড অ্যাওয়ারনেস, স্টপ রেজিসট্যান্স অর্থাৎ সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে এন্টিবায়োটিকের অকার্যকরিতা প্রতিরোধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *