ধুনটে নৌকায় আগুন, অফিস ভাংচুর

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ রাজনীতি সংবাদ

তারিকুল ইসলাম,ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধ:

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ নভেম্বর। নির্বাচন ঘিরে একদিকে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রচারণা, অন্যদিকে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ।

সোমবার (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গোপালনগর ইউনিয়নের মহিশুরা বাজারে রাস্তায় তোড়নের উপরে থাকা নৌকায় অগ্নিসংযোগ এবং নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে গোপালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নৌকার কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় নৌকার কার্যালয়ে থাকা পোষ্টার, কাপড়ের প্যান্ডেল ও চেয়ার ভাংচুর করা হয়েছে। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী শাহ আলম (নৌকা প্রতীক) এবং বিএনপির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম (আনারস প্রতীক) সহ চারজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আনোয়ার পারভেজ রুবন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল করিম আপেল (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল হোসেন বাবু (মোটরসাইকেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুল করিম আপেলের বাড়ির সামনে বৈঠক খানায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বৈঠক খানার চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে চলে যায়। নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কর্মীরা এ হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন আতিকুল করিম আপেল। এছাড়া নির্বাচনী এলাকা থেকে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টার ছেড়া, কর্মীদের হুমকি-ধামকি, হ্যান্ড মাইক দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের গালাগালি করা অভিযোগ উঠেছে নৌকার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল করিম আপেল অভিযোগ করেন নৌকার প্রার্থী আনোয়ার পারভেজ রুবনের লোকজন তার বৈঠক খানায় হামলা চালিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল হোসেন বাবু অভিযোগ করেন কর্মীদের ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। ওই দুই প্রার্থী বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, ধুনট থানা পুলিশ ও রিটার্নিং অফিসারকে মোবাইল ফোনে অবগত করেছেন। তবে তাঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন নৌকার প্রার্থী আনোয়ার পারভেজ রুবন।

গোপালনগর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী শাহ আলম দাবি করেন বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের লোকজন তাঁর দুটি নির্বাচনী কার্যালয়ের হালমা ও ভাংচুর করেছে। এছাড়া রাস্তার উপর তোড়নে থাকা নৌকায় অগ্নিসংযোগ করেছে। এঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে তাঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনকে হয়রানী ও নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে নিজেরা ঘটনা সাজিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মৌখিক অভিযোগ গুলো পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *