শেরপুরের বড়বিলা বিল যেন পাতি সরালির মেলা!

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

মৌসুমী ইসলাম:

বিলের পানিতে ভাসছে সাদা চাঁদমালা ফুল। এই ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ভাসছে বিলের অতিথি পাখি পাতি সরালি। মাঝেমধ্যে এ পাখি ডানা মেলে আকাশে উড়াল দিচ্ছে।

পাখি দেখতে কার না ভালো লাগে? তাও যদি হয় খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত জলাশয়ে। দল বেঁধে বিলের জলে সাঁতরে বেড়াচ্ছে বাদামি রঙের হাঁস। বাদামি এই হাঁসের নাম সরালি বা পাতিসরালি। একসঙ্গে উড়তে থাকলে মনে হয় ধূসর-বাদামি ঢেউ। বগুড়ার শেরপুরে এই প্রথম কোন বিলে এমন পাতি সরালির ঝাঁক দেখা গেল। সরালিকে ‘পরিযায়ী’ বলে ভুল করে কেউ কেউ। তবে এটি পরিযায়ী পাখি নয়। শীত মৌসুমে এই জাতের পাখি দিঘি-জলাশয়ে দল বেঁধে বেড়ায়।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্ব দিকে খামারকান্দি ইউনিয়নের বড়বিলা নামক বিলের নতুন অতিথি এবার পাতিসরালি। বিলের ধারে দাঁড়ালে প্রকৃতির অপরূপ মেলবন্ধন মনে মুগ্ধতা এনে দেয়। এই প্রথম এই বিলে এমন পাতি সরালির ঝাঁক দেখা গেল। পাতি সরালি ছাড়াও এই বিলে পাতি তিলিহাঁস, বালিহাঁস, জলপিপি, পাকড়া মাছরাঙা, পাতিমাছরাঙা, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, শামুকখোল, শালিক, লাটোরা উল্লেখযোগ্য। বিকেল হলেই এখানে পাখি দেখতে ভীড় করছে অনেকেই। বিলটিতে পাখিসহ বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কাজ করছে পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা শেরপুর, বগুড়া। এই বিলে পতিসরালি ঝাঁক বেঁধে গত বছর থেকে আসলেও তাদের নিরাপত্তায় শুধু মাত্র সেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠন Organisation for Environmental Defense of Sherpur- (OEDS) কাজ করছে। সম্পূর্ণ বিলটি কয়েকজন ব্যক্তির, ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গা। এটা নির্মানাধীন ভাস্কার এগ্রো পার্ক। এখানে ৬-৭ মাস আগে হাসের খামার ছিল। এখন খামার নাই। তাই নির্জীব জায়গায় পাতি সরালি বংশবিস্তার শুরু করেছে।

বিলে পাতিসরালি দেখতে আসা কয়েকজন বলেন, প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য দেখতে আমরা শহর থেকে এই বিলে এসেছি। আমাদের খুব ভাল লাগছে। আমরা চাই এই বিল সহ অন্যান্য বিলও যেন পাখিদের অভয়ারন্য হয়।

কৃষক খোরশেদ প্রামাণিক জানান, বিলের পাশে তাঁদের চাষের জমি। জমি পরিচর্যার জন্য তাঁদের নিয়মিত আসতে হয়। এ সময় বিলের পাখির ডাকাডাকিতে মন ভরে যায়। যাঁরা বিলের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁরা একটু সময়ের জন্য হলেও পাখির ডাক শুনতে বিলের সামনে দাঁড়িয়ে যান। মাঝেমধ্যে পাখি শিকার করতে আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের বিলের আশপাশে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দেখলে বাধা দেন।

পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় সাগর জানান, বিলটিতে গত বছরের পর এবছর তুলনামূলক মা পাখি সংখ্যায় অনেক বেশি এসেছে এবং দুই মাস আগে থেকে বংশ বিস্তার শুরু করেছে। এগুলোর প্রধান খাবার পানিতে থাকা জলজ উদ্ভিদ, নতুন কুঁড়ি, শস্যদানা, ছোট মাছ, ব্যাঙ, শামুক ও কেঁচো ইত্যাদি। এ পাখির মাথা, গলা ও বুক বাদামি, পা কালো আর ঠোঁট ধূসর-কালচে রঙের। পিঠে হালকা বাদামির ওপর নকশা আঁকা এবং লেজের তলা সাদা। আমরা কিছু লিফলেট ও ব্যানার লাগিয়ে লোকজনকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। যদি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয় তাহলে অত্র এলাকায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সৃষ্টি ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা যাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম জানান, শুধু বড়বিলা নয়। যদি এই উপজেলার কোথাও পাখি শিকারীদের দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও প্রত্যেক বিলে পাখিদের অভয়ারন্য গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *