বগুড়ায় অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছে কাক ও পাখি

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

পারভীন লুনা,বগুড়া:

ভোরের সূর্য উঠার আগেই এখানে শুরু হয় স্বাস্থ্য সচেতনদের শরীরচর্চা। এরপর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুন আর সব বয়সীদের পদচারণায় মুখর থাকে পার্ক
সেই পার্কের নাম বগুড়া পৌর এডওয়ার্ড পার্ক।

বগুড়া পৌর এডওয়ার্ড পার্কে আজ শীতের সকালে গিয়ে দেখা যায় একদিকে সচেতন মানুষেরা শরীর চর্চায় ব্যস্ত,অন্যদিকে গাছের নিচে পড়ে আছে কাক সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। কয়েকদিন ধরে লক্ষ করছে অনেকেই এই পাখিগুলো মরদেহ পড়ে আছে কিন্তু কেন মারা যাচ্ছে এই পাখিগুলো তা কারো জানা নেই। প্রতিদিনই গড়ে ৮-১০টি করে কাক এবং পাখির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে পার্কের আনাচে কানাচে।

কাক এবং বিভিন্ন পাখির মৃত্যুর সঠিক কারন নির্নয় করতে ইতিমধ্যেই ঢাকা আই ই ডিসিআর এর একটি প্রতিনিধি দল বগুড়ায় এসেছেন।বুধবার (১৯ জানুয়ারী) আইইডিসিআর এর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে বগুড়া পৌর এডওয়ার্ড পার্ক ঘুরে দেখা গেছে আনাচে কানাচে এবং গাছের নীচে কাক ছাড়াও ভাত শালিক ও গো শালিকের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। পার্কে হাটাহাটি করতে আসা লোকজন জানান সন্ধ্যার দিকে গাছে বসে থাকা কাক এবং পাখি গুলো নীচে পড়ে মারা যেতে দেখেছেন। ৮-১০ দিন আগে মারা যাওয়া কাক ও পাখির মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কাক ও পাখির মরদেহ অপসারনের কোন উদ্যোগ নেননি এখনও।

পরিবেশ বাদী সংগঠন বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজার্ভেশন ফেডারেশন (বিবিসিএফ) যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আরাফাত রহমান বলেন, এক সপ্তাহ আগে তিনি ৩৬ টি কাক, ২টি ভাত শালিক ও ২টি গো শালিক মরদেহ অপসারন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, পৌর এডওয়ার্ড পার্ক ছাড়াও আশেপাশের এলাকা জিলা স্কুল, সহ সাতমাথা সংলগ্ন এলাকায় পাতিকাক, ভাত শালিক, গো- শালিকের মরদেহ পাওয়া গেছে। চোখের সামনে পাখির মৃত্যুর বিষয়টি জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে আরাফাত রহমান কাক ও পাখির মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রানী সম্পদ বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে আইইডিসিআর থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বগুড়ায় আসেন। তারা বগুড়া শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন আর্বজনা ফেলানোর ডাম্পিং পয়েন্ট থেকে নমুনা সংগ্রহের পর মারা যাওয়া কাক ও পাখির দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। এই প্রতিনিধি দলকে সহযোগীতা করছেন পরিবেশবাদী সংগঠন তীর এর বগুড়া জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রিফাত হাসান।

বগুড়া পৌর এডওয়ার্ড পার্ক রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদুল বারী এরশাদ বলেন পার্কের অভ্যন্তরে অসংখ্য কাক ও পাখি মারা যাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রানী বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ এসএম ইকবাল বলেন, কাক আমাদের প্রকৃতির ঝাড়ুদার। কাক ময়লা আর্বজনা থেকে খাবার সংগ্রহ করে থাকে।কাক নোংরা পচা আবর্জনা খেয়ে আমাদের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখে তাই কাক কে উপকারী পাখি ধরা হয়।

প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়া জনিত কারনে মারা যেতে পারে। তবে নমুনা সংগ্রহের পর পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়া মৃত্যুর কারন নিশ্চিত করা যাবে না। শরীরচর্চা করতে আসা দুলাল মন্ডল বলেন এই পাখির মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। একদিকে করোনা অন্যদিকে এমন পরিবেশ দূষণ। এগুলো দেখার কেউ নেই।দুলাল মন্ডল বলেন এলাকার বিভিন্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার এবং ক্লাষ্টিকের বজ্রতে বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় পাখিদের মৃত্যু হতে পারে। এমন ভাবে কাক পাখি মরতে থাকলে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *