বগুড়ার শেরপুরে দাদন ব্যবসায়ীর প্ররোচনায় দিনমজুর বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুরে দাদন ব্যবসায়ীর হাতে লাঞ্ছিত ও অপমান সইতে না পেরে দিনমজুর বাবার মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। বৃহস্পতিবার (২৭জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডস্থ শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছেলে রানা মিয়া এই দাবি জানান।

লিখিত বক্তৃতায় বলেন, তাদের বাড়ি উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পারভবানীপুর গ্রামে। মহামারী করোনায় বাবা আব্দুল আজিজ কর্মহীন হয়ে পড়েন। সংসারে নেমে আসে অভাব। তাই স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মন্ডলের নিকট থেকে চড়া সুদে চার হাজার টাকা ঋণ নেন। প্রতিমাসের দশ তারিখে সুদের ৪০০ টাকা পরিশোধের দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিগত সাতমাস সুদের টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু চলতি জানুয়ারি মাসের সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এজন্য বাবাকে চাপ প্রয়োগ করেন ওই দাদন ব্যবসায়ী। সেইসঙ্গে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল আজিজকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অপমান করা হয়। এমনকি তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন দাদন ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক ও তার লোকজন।

এছাড়া আমাদের বাড়ি থেকে একটি ছাগলও জোরপূর্বক নিয়ে যান তারা। আর এই অপমান সইতে না পেরে গত ২০জানুয়ারী বিকেলে সবার অজান্তে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা আব্দুল আজিজ। বিষয়টি জানার পর দ্রুত তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিক বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই ঘটনার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আর এই মৃত্যুর ঘটনার জন্য দাদন ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মন্ডল ও তার ভাড়াটে লোকজন দায়ী। সংবাদ সম্মেলনে দিনমজুর বাবার মৃত্যুর প্ররোচনার ঘটনায় জড়িত দাদন ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নিহতের ছেলে রানা মিয়া।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল খালেক মন্ডল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমার নিকট থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন আব্দুল আজিজ। তিনি টাকাগুলো ফেরৎ চাইলেও তাকে কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *