গর্ভধারণের ৪র্থ সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ

দেশজুড়ে লাইফ স্টাইল


আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি গর্ভধারণের ৪র্থ সপ্তাহের লক্ষণ, উপসর্গ, শিশুর বৃদ্ধি ও কিছু পরামর্শ নিয়ে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

চতুর্থ সপ্তাহের লক্ষণ

প্রথমেই বলে রাখা দরকার বিগত সময়ের ন্যায় ক্লান্তিভাব, মাথা ঘোরা, বমিবমিভাব, অজ্ঞান হয়ে পড়া, অকারণে দুশ্চিন্তা, মেজাজের উঠানামা, অকারণে মন খারাপ, রাগ হওয়া, ভালো লাগা, ঘ্রানশক্তির তীব্রতা-এগুলো চলতেই থাকবে।

তবে, এসময়ও যদি আপনি নিজের মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষণ না করেন তাহলে খুব ঘাবড়ে যাওয়ারও কিছু নেই । কারণ, বেশিরভাগ মায়েরাই গর্ভধারণের ষষ্ঠ সপ্তাহের আগ পর্যন্তও অনেক ক্ষেত্রেই কোন উপসর্গ অনুভব করেন না। আবার কেউ কেউ গর্ভধারণের এ সপ্তাহে এসে কিছু লক্ষণ বুঝতে পারেন।

পেট হালকা ফোলা ভাব

গর্ভাবস্থার চতুর্থ সপ্তাহে আপনার পেট হালকা ফোলা এবং থলথলেভাব অনুভব করতে পারেন । তবে আপনার পেট গর্ভবতীর মতো দেখতে হওয়ার এখনও অনেকটা সময় বাঁকী আছে ।

ত্বকে র‌্যাশ
Rash on the skin during pregnancy

অনেকেই এ বিষয়টি না জানলেও গর্ভাবস্থার একদম প্রাথমিক একটি উপসর্গ হিসেবে শরীরে র‌্যাশ হতে পারে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো গর্ভবতী হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটে থাকে।

চতুর্থ সপ্তাহেই আপনি যদি গর্ভধারণের ব্যাপারটি আঁচ করতে পারেন তাহলে আপনি অন্যদের চাইতে ভাগ্যবতী। কারণ অনেকের ক্ষেত্রেই এ সময়েও ব্যাপারটি থাকে অস্পষ্ট।
গর্ভধারণের চতুর্থ সপ্তাহে এসে গর্ভের ভ্রূণ দুটো স্তরে পরবর্তীতে তিন স্তরে ভাগ হয়ে যায়। প্রথম দুটি ভাগের একটিকে বলা হয় হাইপোব্লাস্ট এবং অপরটিকে বলা হয় এপিব্লাস্ট। ভেতরের স্তর থেকে বাচ্চার শ্বাসতন্ত্র পরিপাকতন্ত্র যেমন- ফুসফুস, পাকস্থলী, ব্লাডার ইত্যাদি গঠিত হয়।

আর মাঝের স্তর থেকে গঠিত হয় শিশুর হৃদপিণ্ড, রক্তনালী, পেশী এবং হাড়।
শেষের স্তরটি পরিণত হবে বাচ্চার মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, চোখের মনি, দাঁতের এনামেল, চামড়া এবং নখে।

এ সপ্তাহে ভ্রুনের সাইজ থাকে একটি পপি বীজের সমান। গর্ভাবস্থার এই সপ্তাহে ভ্রূণের বাহ্যিক কোষগুলো মায়ের রক্তপ্রবাহের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে পুষ্টি উপাদান এবং অক্সিজেন গ্রহন করতে পারে।

গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে ভ্রূণটি একটি ছোট ইয়ক স্যাকের সাথে লাগানো থাকে যা বাচ্চার পুষ্টি সরবরাহ করে। পরবর্তীতে মায়ের প্লাসেন্টার পুরোপুরি গঠন হলে পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহের কাজটি প্লাসেন্টাই করে থাকে।

এ সময় ভ্রূণটি অ্যাম্নিওটিক স্যাকের ভেতরে অ্যাম্নিওটিক ফ্লুয়িড দিয়ে ঘেরা থাকে যা ভ্রূণকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। এই অ্যাম্নিওটিক স্যাকের বাইরের স্তর থেকেই প্লাসেন্টা গঠিত হয়।

এ সপ্তাহে করনীয়

যাদের মাসিক অনিয়মিত তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার সঠিক সময় বোঝা একটু কষ্টকর কারন পরবর্তী মাসিকের তারিখ নির্দিষ্ট থাকেনা। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য মাসিকের তারিখের পর এ পরীক্ষা করা ভালো। অথবা সাত সপ্তাহ পর পরীক্ষা করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট দিনের যে কোন সময় করা যায়। যেদিন পরীক্ষা করতে চান সেদিন একটু কম পানি পান করুন কারন পানি প্রস্রাবে হরমোনের পরিমান কমিয়ে দেয়। কোন কোন টেস্ট কিট অবশ্য সকালের প্রথম প্রস্রাব থেকে করার পরামর্শ দেয়। কারন সারারাতের মূত্র জমা থাকে বলে সেখানে এইচ.সি.জি এর ঘনত্ব বেশি থাকে।

এ সময় অতিরিক্ত গরমে যাবেন না । কারণ, শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বাচ্চার গঠনে অন্তরায় হতে পারে।

নিউরাল টিউব ডিফেক্ট এর ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা সাধারনত গর্ভধারণের অন্তত একমাস আগে থেকে দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড গ্রহনের পরামর্শ দেন।
কারণ, ফলিক এসিড বাচ্চার স্পাইনাল কর্ড ও ব্রেইনের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।

আপনি যদি নিয়মিত মাল্টিভিটামিন গ্রহন করে থাকেন তাহলে লেবেল চেক করে দেখুন তাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফলিক এসিড আছে কিনা। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কখনোই দৈনিক ১০০০ মাইক্রোগ্রামের বেশী ফলিক এসিড গ্রহন করা উচিত নয়।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তী ভিডিওতে সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা সিরিজের ৫ম সপ্তাহের লক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো।

ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন
আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *