৪৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যান শিক্ষক!

প্রধান খবর শিক্ষা

নবদিন ডেস্ক:
স্কুলের চাকরির কারণে মিশা ঘোষাল নামে একজন শিক্ষক প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতেন। এবার তার সেই অদম্য কাজের স্বীকৃতিও পেলেন তিনি। চলতি বছর রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ভারতের জাতীয় শিক্ষকের মর্যাদার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে।

দুই বছর আগে ভুটানের তাদিং পাহাদের কোলে একটি ভারতীয় গ্রামের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব নিয়ে নতুন চাকরি শুরু করেন। গ্রামের নাম টোটোপাড়া। আদিম, অতি ক্ষুদ্র উপজাতি টোটোদের বাসভূমি। বন- জঙ্গলপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অনেকে এখানে বেশিদিন থাকতে চায় না। তাই স্কুলের সম্পাদক ভাগীরথ টোটো নতুন এই প্রধান শিক্ষিকাকে হাতজোড় করে বলেছিলেন, ‘এখানে এসে কেউই বেশিদিন থাকতে চান না, তাই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাও ঠিকমতো হয় না। আপনি দয়া করে ছেড়ে চলে যাবেন না।’

সেই থেকে ওই প্রধান শিক্ষিকা সেই গ্রামের স্কুলেই রয়ে গেছেন, আবার সেখান থেকেই সরাসরি পৌঁছে গেছেন দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে। শনিবার ওই প্রধান শিক্ষিকা, মিশা ঘোষালকে ভারতের রাষ্ট্রপতি সম্মানিত করেছেন জাতীয় শিক্ষক হিসাবে।

এ বিষয়ে মিশা ঘোষাল বলেন, ‘ওই যে সেক্রেটারি মশায় হাতজোড় করে বলেছিলেন, যে ছেড়ে চলে যাবেন না যেন, তারপর এখানেই থেকে গেলাম। গত ১২ বছর পরিবার থেকে দূরে থেকে অসম্ভব কষ্ট করে যাতায়াত করে যতদূর সম্ভব চেষ্টা করেছি টোটো ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাটা ভাল লাগাতে। নানা রকমভাবে শিক্ষা দেয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি। হয়তো তারই স্বীকৃতি পেলাম আজ। ভার্চুয়ালি হলেও মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে নমস্কার করছেন, আমি প্রতি-নমস্কার করছি- কী যে অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না।’

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ৫ই সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, জনপ্রিয় শিক্ষক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোন শিক্ষককে জাতীয় শিক্ষকের সম্মান দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *