প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের সরকারী প্রণোদনা দিতেই মাঠে আছি-ডা: মো: আমির হামজা

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

এস,আই শাওন, নবদিন: করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের সরকারি প্রনোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আর এ জন্য সারাদেশের প্রাণীসম্পদ অফিসগুলোতেও উম্মুক্ত পদ্ধতিতে ফরম পূরণ ও জমা নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রাণী সম্পদ অফিসগুলো। যার ব্যতিক্রম নয় বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসও।

এভাবেই শেরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের খুঁজে বের করছেন শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা। ইনসেটে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজা।

শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সুত্র জানায়, বিশ^ব্যাপী চলমান (কোভিড-১৯) বা কারোনার প্রভাবে দেশে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের মাঝে সরকারি প্রনোদনা প্রদাণের লক্ষ্যে খামারিদের তালিকা দিতে বলা হয়েছে প্রাণীসম্পদ অফিসগুলোকে। এ কারণে, শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরও উম্মুক্তভাবে ঘোষনা দিয়ে প্রাণী সম্পদ অফিসে ফরম জমা নিতে শুরু করে। গত বুধবার (২সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে গিয়েও ঘটনার সত্যতা মিলেছে। অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই অফিসের সামনে ফরম পূরণ করে লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম জমা দিচ্ছেন। আর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান ফরম জমাদান কার্যক্রমে অনেক খামারি ফরম জমা দিয়েছেন।

এভাবেই শেরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের খুঁজে বের করছেন শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজা।

কিন্ত, এই ফরমগুলো যারা জমা দিলো তারা প্রকৃত খামারী বা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ খামারী কিনা তা জানা দরকার। কারণ, সরকারী প্রণোদনা যদি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা না পেয়ে যেনতেনভাবে বিলি বন্টন করা হয় তাহলে এটা দেশের ক্ষতি করা বৈ আর কিছু হবেনা। বলছিলেন, শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজা।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সুত্র আরো জানায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ খামারিরা ফরম জমা দিয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করতে সরকারি ছুটিরদিনসহ নিরলসভাবে পরিশ্রম করে খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খামার পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছেন শেরপুর উপজেলা প্রণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজাসহ তার দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

এ বিষয়ে কথা হলে শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজা নবদিনকে লেন, আমরা উম্মুক্ত পদ্ধতিতে খামারি নিচ্ছি, কারণ, যেন কোনভাবেই খামারিরা বাদ না পরে তবে, প্রকৃত খামারিরা ফরম জমা দিচ্ছে কিনা তা দেখতে আমিসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খামার পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন খামারের ছবি ও তথ্যসংগ্রহ করছি।

এভাবেই শেরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের খুঁজে বের করছেন শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজা।

শেরপুর উপজেলার এক খামারি নবদিনকে বলেন, খামারিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খামারিদের যে সুযোগ দিতে চেয়েছেন মাঠপর্যায়ে সে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়ন হলে খামারিরা খুশি হবে। সাথে সাথে খামারিরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

আইয়ুব নামক আরেক খামারী নবদিনকে বলেন, করোনার কারণে আমরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি একমাত্র সরকারের সহায়তা ছাড়া আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না। আর প্রণোদনার ঘোষণায় খুশি হলেও মনে শঙ্কা ছিল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা প্রণোদনা পাবে কিনা! তবে, শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আমির হামজাসহ তার দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ যেভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত খামারীদের তথ্যাদি নিচ্ছে তাতে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি যে এবার প্রকৃতরাই অর্থ পাবে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনার কারণে পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে প্রায় দুই হাজার ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পোল্ট্রি শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং ডেইরি শিল্পে ৯১২ কোটি টাকা ক্ষতির পরিমাণ বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য বলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *