শিবগঞ্জের কৃষক বারমাসি তরমুজ চাষে সফল

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

নবদিন ডেস্ক:

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা দেশের অন্যতম এক কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এখানে যেমনিভাবে ধান, শাক-সবজি উৎপাদন করে কৃষকরা বহু বছর ধরে সফলতা পাচ্ছে ঠিক একইভাবে সফলতার নতুন আরেক পদ যুক্ত হয়েছে এ এলাকার কৃষকদের কৃষিক্ষেত্রে। এখানকার কৃষকদের আবাদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে তরমুজ চাষ। এ এলাকায় ইতিমধ্যে ব্যতিক্রমী হাইব্রিড জাতের বারমাসি তরমুজ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উপজেলার আটমুল গ্রামের কাজী সুবিদ আলীর ছেলে সোহেল রানা। দেশে বর্তমানে চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ও ঝড়-বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করেও তরমুজের চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন সোহেল রানা। এ সফলতার দেখা মিলল কৃষক সোহেল রানার তরমুজ মাচায়। এটি বারমাসি জাত বলে এলাকার কৃষকদের মাঝে নতুক চমক সৃষ্টি তরমুজটি। এখন তার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক তার পদ্ধতি অনুসরণ করে শুরু করেছেন হাইব্রিড জাতের বারমাসি তরমুজ চাষ।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল গ্রামের অল্পশিক্ষিত কৃষক সোহেল। পেশায় তিনি একজন আগাগোড়া কৃষক। নিজের সামান্য জমি-জমা চাষ করে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল তার। এমতাবস্থায় তার বন্ধুর পরামর্শে তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে সোহেল রানা তার ওই জমিতে জেলার জয়পুহাটের নিচিন্তা এলাকা থেকে ১ হাজার ৪’শ চারা সংগ্রহ করে তরমুজ চাষ শুরু করেন। তার লাগানো চারাগুলো থেকে মধুমালা, ডোরা বাংলালিংক এবং ব্লাক বেবি নামক ৩ জাতের তরমুজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। মধুমালা জাতটির উপরের রং দেখতে অনেকটা মালটার মতো। মথুমালা কাটলে ভিতরে রক্তের মতো লাল আর খেতেও খুবই সুস্বাদু। অন্যদিকে ডোরা বাংলালিংক জাতটি দেখতে সবুজ উপরে ডোরা কাঁটা দাগ আছে। ডোরা বাংলালিংক কাঁটলে ভিতরের রংটা বেশ হলুদ এ জাতটিও খেতে বেশ মজাদার। আর ব্লাক বেবি উপরে দেখতে কালচে সবুজহলেও কাঁটলে ভিতরে টকটকে লাল। আর খেতেও বেশ মজাদার।

কৃষক সোহেল রানা চারা লাগানোর ৫৭ দিন পর হতেই ফল তুলতে শুরু করেছেন। তিনি প্রতিটি তরমুজ বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় । গত ৬৭ দিনে ১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন সোহেল। এখনো তার জমিতে যে পরিমান তরমুজ রয়েছে তার আনুমানিক বাজার মূল্য আরও ১ লক্ষ টাকা। অথচ, ৩৩ শতাংশ জমিতে তরমুজ লাগাতে তার খরচ হয়েছিল মাত্র ৪০ হাজার টাকা। তার সফলতা দেখে ঔ এলাকার ছলিম উদ্দিনের ছেলে জুকু মিয়া, করব উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হামিদসহ আরো অনেকেই ঝুঁকেছেন এই বারমাসি জাত তরমুজ চাষে।

চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সফল কৃষক সোহেল রানা বলেন, এই বারমাসি জাতের তরমুজ চাষে প্রচুর লাভ। চাষের ক্ষেত্রে মৌসুম শেষ হওয়ার পর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাটির ঢিবি তৈরি করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে মাচা তৈরি করে এ তরমুজের চাষ করতে হয়। মাত্র ৫৫-৬০ দিনের মধ্যেই একেকটি তরমুজ প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের হয়ে থাকে। তাই এবার চিন্তা করলাম গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করা যায় কিভাবে? এ চিন্তা থেকেই আমার ৩৩ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ শুরু করি। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এ জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনার কারণে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও পরিবহণ সঙ্কট কেটে যাওয়ায় ও বাজারে তরমুজের দাম ভালো থাকায় সেই শঙ্কা কেটে ভালই লাভবান হয়েছি। এই মৌসুমেও তরমুজ বিক্রি করে আরো বেশ লাভবান হব বলে আশা রাখছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মোজাহিদ সরকার বলেন, মাচায় তরমুজ চাষে যেমন ফলন ভালো হয়, তেমনিভাবে রোগবালাইও থাকে কম। এ সম্পর্কে জানতে আমাদের কাছে এলে আমরা কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করব। পাশাপাশি ফলন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপারেও কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *